Published : 28 Apr 2026, 11:33 PM
‘দরিদ্র বিচারপ্রার্থীদের’ আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সব আইনজীবীর জন্য অন্তত ১০ শতাংশ মামলা বিনামূল্যে পরিচালনা বাধ্যতামূলক করার চিন্তা করছে সরকার।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারের এমন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে এই ‘বাধ্যবাধকতা’ আনা হবে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের অভাব নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি তাদের পেশাগত ‘দায়বদ্ধতা’ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাজী জিনাত হক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বক্তব্য দেন।
দেশে বর্তমানে ৪০ লাখের বেশি মামলা অমিমাংসিত এবং এ সংখ্যা বাড়ছে বলে সভায় তথ্য দেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আইনজীবীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী বাংলাদেশে বর্তমানে। তাদের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নাই। অন্যান্য সব বিভাগে কিন্তু প্রশিক্ষণ আছে।
“যারা বিসিএস দিচ্ছেন, সেনাবাহিনীতে যাচ্ছেন, যারা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, সরকারি ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার হচ্ছেন, এমনকি কানুনগোদের পর্যন্ত প্রশিক্ষণ হচ্ছে। কিন্তু আইনজীবীদের একবার সার্টিফিকেট দিয়ে ছেড়ে দিলে তারপরে আর তাদের লাগাম ধরার কোনো জায়গা নাই।”
বার কাউন্সিলের সভাপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি যখন সভাপতি ছিলাম, একটা রোল প্লে করে এসেছিলাম। উনিও সেই কমিটির সদস্য ছিলেন, যে বার কাউন্সিলের সব সদস্যকে, মানে দেশের সব আইনজীবীকে একটি বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনব। সেই কারণে ইতিমধ্যে ব্রিটিশ একটি ল ফার্মের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। আমি আজ ও গতকালকেও জার্মান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি ।”
তবে প্রশিক্ষণের সঙ্গে ‘বিশেষ শর্ত’ জুড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন আসাদুজ্জামান। বলেন, “আমরা চাচ্ছি যখন প্রশিক্ষণগুলো দেব, সাথে সাথে একটা শর্ত জুড়ে দিতে চাই। যদি আইন পরিবর্তন করা লাগে সেটাও করব। শর্তটা হলো, প্রত্যেক আইনজীবীকে একদিকে যেমন এথিক্যাল জায়গায় স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করতে হবে, একইসঙ্গে তারা কমপক্ষে ১০ শতাংশ মামলা প্রবনো করবেন। যদি প্রয়োজন হয় আমরা আইন পরিবর্তন করতে চাই।”
মামলাজট নিরসনে আইনি সহায়তাকে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “৪০ লাখ মামলার জট কমাতে গেলে আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরো বেশি কার্যকর করতে হবে। কারণ মেডিকেল সায়েন্সে শুনি, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’। এই ৪০ লক্ষকে কমিয়ে যখন সামনে আনব, তখন সেটা হবে কিওরিং মেকানিজম।
“আর যখন আইনি সহায়তার মাধ্যমে আদালতে মামলা যাওয়াটা বন্ধ করতে পারব, সেটা হবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। সেই দিকেই লক্ষ্য রেখে এগিয়ে যাব।”
মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা যদি কখনো মনে করেন আইনি সহায়তার প্রয়োজন, আইনজীবীরা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন আইনমন্ত্রী।
এছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এ যাবৎকালে যারা ভূমিকা রেখেছেন বিশেষ করে বিগত ১৬ বছরে আন্দোলন করতে যেয়ে যারা বিনা বিচারে খুন হয়েছেন, গুম হয়েছেন তাদের পরিবার ও মিথ্যা মামলা হামলায় জর্জরিত এবং যারা বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়েছেন তারাও এই আইনি সহায়তার অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল বলেন, “আমাদের মাইন্ডসেটের কারণে লিগ্যাল এইডে ভালো আইনজীবী বলতে যাদের বোঝাই, তাদের কিন্তু পাওয়া যায় না। যাদের আপনারা টপ র্যাংকিং আইনজীবী মনে করেন, তারা লিগ্যাল এইডের পক্ষে কিংবা কোনো নিঃস্ব মানুষের পক্ষে আইনি সহায়তা দিয়েছেন- এমন উদাহরণ দেখাতে পারবেন না।”