Published : 20 Apr 2026, 08:20 PM
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথরেখা তৈরিতে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তিতে (পিসিএ) প্রাথমিক সই করেছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ সদরদপ্তরে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) নজরুল ইসলাম এবং ইইউর পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এশিয়া ও প্যাসিফিক) পাওলা পাম্পালনি সই করেন। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের পররাষ্ট্র বিষয়ক হাই রিপ্রেজেনটেটিভ কায়া কালাস উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ‘প্রথম দেশ হিসেবে’ ইউরোপীয় জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন চুক্তিতে যাওয়ার কথা বলছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এক কর্মকর্তা বলেন, চুক্তির প্রাথমিক সই হওয়ার পর এখন ইইউভুক্ত দেশগুলোর ভাষায় অনুবাদ হবে। এরপর চূড়ান্তভাবে চুক্তি সই হবে।
পাঁচ দফার দরকষাকষি শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পিসিএ খসড়া চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ ও ইইউ।
তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, সই হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসাবে কাজ করবে পিসিএ।
“বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিভিন্ন নীতিগত জায়গায় সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করবে এ চুক্তি। এর মধ্যে মানবাধিকার ও সুশাসন থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, টেকসই পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, পরিবহন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের খাত রয়েছে।”

চুক্তির সইয়ের দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান কায়া কালাসের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের আলোচনায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিস্তৃত সব খাত উঠে এসেছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা, অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রম মান এবং রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্রে রেখে ওই আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও ইনভেস্টমেন্ট প্রটেকশন অ্যাগ্রিমেন্ট (আইপিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে উভয়পক্ষ।