Published : 01 Apr 2026, 08:37 PM
দেশে সরকারি চাকরিতে সব শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মরত আছেন; এর বিপরীতে শূন্য আছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ।
বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপির এমপি শেখ রেজাউল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এ তথ্য জানান।
২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ‘স্ট্যাটিস্টিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’ থেকে প্রতিমন্ত্রী শ্রেণিভিত্তিক এ হিসাব তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত আছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ।
তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্য ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ।
চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন, শূন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ।
এ ছাড়া অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক মিলিয়ে অন্যান্য শ্রেণিতে কর্মরত ৭ হাজার ৯৮০ জন, শূন্য পদ ৮ হাজার ১৩৬টি।
সরকারি অফিসের শূন্য পদ কবে পূরণ হবে–এমপি শেখ রেজাউল ইসলামের এমন সম্পূরক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শূন্যপদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া।
“আমাদের সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং এই কর্মসূচিতে সব মন্ত্রণালয় বিভাগ কত সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে সে ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি চলমান রয়েছে।”
কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ এক সম্পূরক প্রশ্নে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তোলেন। তার বক্তব্য ছিল, ২০১৫ সালের পর আর বেতন বাড়েনি, অথচ এ সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যে পে কমিশন গঠিত হয়েছে। আমরা জানি বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।”
এ বিষয়ে পৃথক নোটিস দিলে বিস্তারিত উত্তর সংসদে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২৩ হাজার ৮৬৫ রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার
ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে ঢাকা-১৮ থেকে ১৪৭টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক মিথ্যা গায়েবী হয়রানিমূলক যেসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে তার সংখ্যা ২৩ হাজার ৮৬৫।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের বিএনপির এমপি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের প্রশ্নের জবাবেও আইনমন্ত্রী একই সংখ্যা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান আছে।
মন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যের কমিটি পুনর্গঠন করে মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ নেওয়া হচ্ছে। আবেদনপত্র, এজাহার, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিটের সত্যায়িত কপি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক হয়রানির মামলা চিহ্নিত করা হচ্ছে।
সম্পূরক প্রশ্নে মামলা প্রত্যাহারের পরও অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের অনলাইন ডাটাবেজে তা হালনাগাদ না হওয়ার অভিযোগ তোলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, এর ফলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট ও পেশাগত কাজে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “উনি যেটা বলেছেন এটা উনার ফান্ডামেন্টাল রাইটস। একজন মানুষ যখন আদালত কর্তৃক খালাস প্রাপ্ত হন, ইনোসেন্ট প্রুভড হন, এটা তার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রকল্প নাই; এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবজেক্ট ম্যাটার।”
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনমন্ত্রী।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামরুল হাসান এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলার জটিলতার প্রসঙ্গ তোলেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “মামলা প্রত্যাহারের সনদ বা সত্যায়িত কপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে দিয়ে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর যাতে যে সমস্ত মামলা প্রত্যাহার হয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট জটিলতা অতিদ্রুত নিষ্পন্ন করে সেই অনুরোধ জানাব।”
আরেক সম্পূরক প্রশ্নে নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপির এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক তার নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোও প্রত্যাহারের দাবি তোলেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা কমিটি করেছি, যাচাই বাছাই করছি এবং এই মামলাগুলো প্রত্যাহার করার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করব।”
খাল পুনঃখননে ২০ হাজার কিলোমিটারের পরিকল্পনা
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি দিনাজপুর-৪ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়ার প্রশ্নের জবাবে জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশজুড়ে নদী, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি চলছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, “এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সকল জেলার নদনদী ও খালবিলের নাব্যতা পুনরুদ্ধার হবে। পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।”
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ৩১৮ দশমিক ৬৩৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
“সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন পুনঃখরণ করবে।”
এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাবিখা, কাজের বিনিময়ে টাকা ও টেস্ট রিলিফ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করবে বলেও সংসদে তুলে ধরেন তিনি।
ঢাকার খাল উদ্ধারের বিষয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করেন ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাসেম। জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে।
“সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ঢাকা শহরে যেহেতু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ তাকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। ইতিমধ্যে ঢাকার পাশাপাশি শুভাঢ্যা খালে গিয়েছি। সেখানে পরিদর্শন করেছি।”
‘নাফ নদীতে টহল আরও বাড়ানো দরকার’
ইলিশের মত মিঠাপানির মাছের প্রজনন রক্ষায়ও নির্দিষ্ট এলাকায় অভয়ারণ্য করার পরিকল্পনার কথা সংসদে বলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান সম্পূরক প্রশ্নে বৈশাখে অন্তত ১৫ দিন হাওর, খাল-বিলের মিঠাপানির মাছ ধরা বন্ধ রাখার প্রস্তাব তোলেন। জবাবে মন্ত্রী এ ধরনের পরিকল্পনা থাকার কথা বলেন।
পশুখাদ্য নিয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন প্রশ্ন তোলেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, চর, খাস ও পতিত জমিতে ঘাস চাষের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লবণাক্ত চরাঞ্চলেও উপযোগী ঘাস উৎপাদনের উদ্যোগ চলছে।
নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ সম্পূরক প্রশ্নে গভীর সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার ও ভারতের দস্যু ও জেলেদের হামলার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি জেলেরা।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের এখানে ওই ধরনের কোস্টগার্ডের অলরেডি টহল আমাদের আছে।”
তিনি টহল আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।