Published : 29 Jan 2024, 01:10 PM
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদকে জামিন দেয়নি আপিল বিভাগ।
বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
বজলুর রশীদের আবদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
তিন কোটি ১৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার দায়ে ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর বজলুর রশীদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। এছাড়া তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে হাই কোর্টেও তার সাজার রায় বহাল থাকে।
১৯৯৩ সালে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বজলুর রশীদ ঢাকায় সর্বশেষ কারা সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার আগে ডিআইজি হিসেবে ছিলেন রাজশাহীতে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ ঘুষের টাকা স্থানান্তর করতে ডিআইজি প্রিজনস (হেডকোয়ার্টার্স) বজলুর রশীদ অভিনব এক পন্থা বেছে নিয়েছেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শতাধিক ধাপে তিনি পাঠিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। টাকা তুলেছেন তার স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহার।
এজন্য প্রকৃত ঠিকানা গোপন করে স্ত্রীর নামে সিম তোলা হয়েছে এবং সরাসরি নিজে টাকা না পাঠিয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে ওই টাকা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।
এরপর এই কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুদকের তলবে হাজির হলে ওই বছর ২০ অগাস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে। পরে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মামলায় বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য রূপায়ন হাউজিং এস্টেটের সঙ্গে বজলুর চুক্তি করেন। এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন পর্যন্ত ৫৪ হাজার টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে চেকে পরিশোধ করেন। আর বাকি তিন কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেন নগদে।
২০২০ সালের ২৬ অগাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাসিরউদ্দীন ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। সব মিলিয়ে ৩ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯০২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয় সেখানে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঢাকার সিদ্বেশ্বরী রোডে রূপায়ন হাউজিংয়ের স্বপ্ন নিলয় প্রকল্পের দুই হাজার ৯৮১ বর্গফুট আয়তনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন বজলুর রশীদ। এর দাম হিসেবে পরিশোধ করা তিন কোটি ৮ লাখ টাকার কোনো বৈধ উৎস তিনি প্রদর্শন করতে পারেননি।
“এমনকি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়সংক্রান্ত কোনো তথ্যও তার আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেননি। ফলে তার এই পরিশোধিত তিন কোটি ৮ লাখ টাকা জ্ঞাতআয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।”
ওই বছরের ২২ অক্টোবর আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই কারা কর্মকর্তার বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
তার দুই বছরের মাথায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন।
এরপর ২০২২ সালের ২ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল করেন বজলুর রশীদ। পাশাপাশি জামিনের আবেদনও করেন তিনি। পরদিন আপিল শুনানির আবেদন গ্রহণ করে হাই কোর্ট।
২০২৩ সালের ১৮ জুন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাই কোর্ট বেঞ্চ এ মামলার আপিলের রায় দেয়; রায়ে বজলুর রশীদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়।
পুরনো খবর
ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের সাজা বহাল
ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের জামিন স্থগিত
ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ
খালাস চেয়ে ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের আপিল
ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের ৫ বছর জেল
ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের জামিন বাড়ল
ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের সম্পত্তি ‘ক্রোকের’ নির্দেশ
ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের মামলায় অভিযোগ গঠন ২২ সেপ্টেম্বর
অবৈধ সম্পদ: ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র