সংসদে আবারও মাইক বিভ্রাট, অধিবেশনে বিরতি
চলতি সংসদের প্রথম দিন ১২ মার্চও একই কারণে সংসদের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল।
মাইক বিভ্রাটে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আবারও বিরতি পড়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ শুরুর পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল।
রোববার সন্ধ্যায় ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে।
এদিন দুটি বিল পাসের পর সন্ধ্যায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বক্তব্য দিতে উঠলে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যে তার কথা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল না।
এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তার নিজের মাইকও কাজ করছে না।
এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি মাইক মেরামত ও নামাজের বিরতির জন্য অধিবেশন ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন।
চলতি সংসদের প্রথম দিন ১২ মার্চও একই ধরনের মাইক বিভ্রাটে অধিবেশনে বিরতি দিতে হয়েছিল। সেদিনও সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটির কারণে কার্যক্রম থেমে যায়।
রোববার স্পিকার বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ, মাইক কাজ করছে না। আমরা আবারও মাইক বিভ্রাটের শিকার হয়েছি। মাননীয় চিফ হুইপ, আপনারা কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন? আপনারা আমাকে শুনতে পাচ্ছেন না। এখন মুলতবি করে দেই। কতক্ষণের জন্য?”
অধিবেশন কক্ষে পরে শব্দব্যবস্থা পরীক্ষা করেন সংসদের কর্মকর্তারা।
অধিবেশন চলাকালে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন বিল নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন চিফ হুইপ। ওই বিলে বিরোধী দল ‘হ্যাঁ’ ভোট না দেওয়ায় তিনি সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, চাকরির জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে, কিন্তু বয়সসীমা বাড়ানোর বিলে বিরোধী দল সমর্থন না দেওয়ায় তিনি বিস্মিত। এসময় বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানালে কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়।
সরকারি দলের সদস্যরাও চিফ হুইপের বক্তব্যে সমর্থন দেন। দুই পক্ষের হট্টগোলে তার বক্তব্য স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল না। তখন স্পিকার তাকে উদ্দেশ করে বলেন, বক্তব্য শোনা যাচ্ছে না, বসে পড়ুন।
এ সময় কয়েকজন সদস্য সমস্বরে বলেন, তারা স্পিকারের কথাও শুনতে পাচ্ছেন না। তখন স্পিকার বলেন, তাহলে মুলতবি করে দেই।
পরে ৪০ মিনিটের বিরতির ঘোষণা দেন তিনি।
৫টা ৫৭ মিনিটে মুলতবি, শুরু ৭টা ১৪ মিনিটে
বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলেও তা আবার শুরু হয় ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিট পর- সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে।
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন আবার শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন মাইক বিভ্রাটের কারণ নিয়ে কথা বলেন। বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষুব্ধ জনতা জাতীয় সংসদ ভবনে ঢুকে আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি তছনছ করেছিল।
তার ভাষায়, এ কারণেই মাইকের সিস্টেমে বারবার বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।
“ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০২২ সালে সংসদের ভেতরে এই মাইক সিস্টেম স্থাপন করা হয়। কিন্তু এটি স্থাপনের সময় কোনো ওয়ারেন্টি ছিল কি না, কিংবা কতদিন কার্যকর থাকবে, সে সম্পর্কিত কোনো কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বোঝা যাচ্ছে, অত্যন্ত হেলাফেলার সঙ্গে কাজটি করা হয়েছে।”
স্পিকার বলেন, সংসদ কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের ওই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা এসে মাইক ব্যবস্থা ঠিক করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, উল্টো বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।
“এ কাজে যুক্ত স্থানীয় পক্ষও কখনও পলাতক থেকেছে, কখনও দায়সারাভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।”
এ অবস্থায় পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জানাতে সংসদের সচিবকে নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেন স্পিকার। বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইনসভায় বারবার এমন বিভ্রাট হওয়া জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কলঙ্কজনক।
এমন পরিস্থিতি আবার তৈরি হলে নতুন করে বিরতি দিতে হতে পারে বলেও তুলে ধরেন তিনি।
