আদালতে এই নিরাপত্তা পরে থাকবে তো, সংশয় আইনজীবীদের

দুই জঙ্গিকে তাদের সহযোগীরা ছিনিয়ে নেওয়ার পর আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রকাশ বিশ্বাসবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Nov 2022, 03:36 PM
Updated : 21 Nov 2022, 03:36 PM

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের প্রবেশ পথসহ চারপাশে পাহারায় অতিরিক্ত পুলিশ, আদালতের হাজতখানার সামনেও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনি, কয়েদি বহনকারী প্রতিটি প্রিজন ভ্যানের সামনে ও পেছনে পুলিশের পাহারা।

দুই জঙ্গিকে তাদের সহযোগীরা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর সোমবার ঢাকার আদালত অঙ্গনে এমন নিরাপত্তার বন্দোবস্ত দেখা গেছে।

তবে এমন বন্দোবস্ত টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ী ঢাকার আইনজীবীরা।

সৈয়দ শাহীনুল ইসলাম রিজভী নামে এক আইনজীবী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার পর পুলিশ আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছে। তবে দুই দিন যেতে না যেতেই আবার সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে।”

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় জঙ্গিদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আদালত। জঙ্গিদের বোমা হামলায় বিচারকের প্রাণ যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

গত রোববার ঢাকার জনাকীর্ণ আদালতে আনসার আল ইসলামের দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের সহযোগীরা।

মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান এবং আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব নামে ওই দুজন প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায়ও সোহেলের ফাঁসির রায় হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার আরেকটি মামলায় তাদের কারাগার থেকে রোববার আদালতে নেওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে হাজাত খানায় নেওয়ার সময় পুলিশকে পেপার স্প্রে ছুড়ে এবং পিটিয়ে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে মোটর সাইকেলে করে পালিয়ে যায় তাদের সহযোগীরা।

দুই জঙ্গি পালিয়ে যাওয়ার পর সারাদেশে আদালত পাড়ার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল বেশি। এখানে কয়েকটি ভবনে ঢাকার হাকিম এবং জজ আদালতের কার্যক্রম চলে। ফলে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে এখানে।

Also Read: জঙ্গি ছিনতাই: পুলিশের দুর্বলতা না অবহেলা?

Also Read: জঙ্গি ছিনতাই: কোথাও গাফিলতি ছিল, বলছেন মন্ত্রী

Also Read: দুই জঙ্গি ছিনতাই: পাঁচ পুলিশ বরখাস্ত

ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম (সিজেএম) আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবীর বাবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত প্রাঙ্গণে আদালতের কর্মচারী নেতাদের যোগসাজশে অবৈধভাবে মোটর সাইকেল রাখা হত, যা আজ দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া প্রত্যেক আদালত ভবনের মতো এ আদালত ভবনের হাজতেও কতিপয় পুলিশ সদস্য হাজতি আসামিদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে সুযোগ-সুবিধা দিত, সেটি আজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।”

সোমবার সকাল থেকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের প্রবেশপথের ফটকে অবস্থান নিয়ে ছিল পুলিশ সদস্যরা। অন্যান্য দিন এসব ফটক খোলা থাকে। তবে এদিন মূল ফটকে তালা মেরে কেবল পকেট গেইট খোলা রাখা হয়।

আদালতের প্রবেশ মুখে বসানো হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর, যা এর আগে ছিল না।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ হেমায়েত হোসেন।

ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আদালত এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আদালতে নিরাপত্তা বাড়ানো হলেও আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের উদ্বেগ কাটেনি। আদালতে জঙ্গি আসামিদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে ডান্ডাবেরি পরানোর দাবিও উঠেছে আইনজীবীদের মধ্য থেকে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছেন ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু।

আদালতে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত ছিল বলে মন্তব্য করেন আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেক স্পর্শকাতর মামলার আসামি কারাগার থেকে কোর্ট হাজতে এসে জন্মদিন পালন করে, বিবাহ বার্ষিকী পালন করে, তা করে অসৎ কয়েকজন পুলিশ কমকর্তার সাহায্যে। এতে কি আদালতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় না?”

“পুলিশ ও কর্মচারীদের উঞ্ছবৃত্তি বন্ধ না হলে আদালতের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকবে,” বলেন অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবীর বাবুল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক