Published : 20 Apr 2026, 03:19 PM
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে কূটনৈতিক পদক্ষেপের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিস দিয়েছেন এক আইনজীবী।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিস পাঠান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মাধ্যমে বাংলাদেশি জাহাজগুলো বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে এবং দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দিয়েছে।
নোটিসে বলা হয়, সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের অন্ন, বস্ত্রসহ জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় নাগরিকদের এই অক্ষমতা সরাসরি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘জীবনের অধিকার’ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সরকার এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় দৃশ্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে নোটিসে বলা হয়।
এতে এও বলা হয়, বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার অংশ হলেও কোনো রাষ্ট্রীয় নীতি বা কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা যদি সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যালোচনার আওতাভুক্ত হবে।
আন্তর্জাতিক ও সাংবিধানিক বিধানের বরাতে নোটিসে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২৫(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামরত বিশ্বের যেকোনো নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বর্তমানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জনগণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ এবং অযৌক্তিক আগ্রাসনের শিকার।
নোটিসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার যদি মার্কিন আগ্রাসনের শিকার ইরানের নির্যাতিত জনগণের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সমর্থন ব্যক্ত করে, তবে সেই কূটনৈতিক সদিচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা বর্তমানে বাংলাদেশের চরম অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নোটিসে আগামী ১০ দিনের মধ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার ইরানের জনগণের পক্ষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানাতে এবং একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিসে জানানো হয়েছে।