Published : 12 Oct 2025, 10:06 PM
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কার্যাদেশে ‘অনিয়ম, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে’ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজিল হাসান রোববার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন বলে সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা ছাড়া আরো যাদের নাম আছে আসামির তালিকায়
• সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু
• সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ
• সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন
• সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
• সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
• সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান
• সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক
• সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফারুক জলিল
• সাবেক উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম
• সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবাল ও ইবনে আলম হাসান
• সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আফতাব হোসেন খান ও আব্দুস সালাম
• এছাড়া সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী
• পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৬ সালে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের জন্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) লিমিটেডকে শতকরা ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) পাঁচ বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
“আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেদের ও অন্যদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে প্রতারণা ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, যার ফলে সরকারের ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকার ক্ষতি হয়।”
এজাহারে বলা হয়, ২০১৬ সালে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে আগের টেন্ডার বাতিল করা হয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা না করে শুধুমাত্র সিএনএস লিমিটেডের সঙ্গে ‘একক উৎসভিত্তিক দরপত্র’ আহ্বান করে ওই কোম্পানিকে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি আদায়কৃত টোল থেকে শতকরা হারে মোট ৪৯৪ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করে।
দুদকের বিশ্লেষণ বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এমবিইএল-এটিটি জয়েন্ট ভেঞ্চার মাত্র ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় একই কাজ সম্পন্ন করেছিল। এছাড়া ২০২২-২০২৫ সালের মধ্যে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে ভ্যাট ও আইটিসহ ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় একই দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা পাঁচ বছরে হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ১০১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০১৬ সালে সিএনএস লিমিটেডকে শতকরা হারে চুক্তি দেওয়ার ফলে সরকারের ‘বিপুল আর্থিক ক্ষতি’ হয়।
সিএনএস লিমিটেড দাবি করে, নতুন প্রযুক্তি ও অবকাঠামো স্থাপনের কারণে তাদের ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু ফাইন্যান্সিয়াল প্রপোজাল বিশ্লেষণ করে দুদক দেখেছে, তাদের প্রকৃত ব্যয় ছিল ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার মত। ফলে সরকারের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা।
এজাহারে বলা হয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মাধ্যমে সিএনএস লিমিটেডের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়। ২০১৬ সালেরর ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কোম্পানি কার্যাদেশ পায়।
দুদক বলছে, তদন্তকালে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।