Published : 29 Mar 2026, 12:48 AM
রোজার ঈদের ফিরতি যাত্রাতেও বাড়তি ভাড়া আর যানজটে ভোগান্তি হওয়ার কথা শুনিয়েছেন ঢাকামুখী যাত্রীরা।
এছাড়া সড়কে প্রাণও ঝড়েছে ফিরতি যাত্রাতে। ফলে ঈদের আগে-পরে ১১ দিনে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩০০ জন।
বাংলাদেশ রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলে রেলে কাটা পড়ে যে পাঁচ বাসযাত্রীর প্রাণ গেছে, তাদের এই হিসাবে ধরা হয়নি।
ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেছেন, “সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ অব্যবস্থাপনা। আমাদের এখানে ভালো ব্যবস্থাপনাই গড়ে ওঠেনি। ন্যূনতম যে ব্যবস্থাপনা ছিল, তা এবার ভেঙে পড়েছে। কোনো চেইন অব কমান্ড কাজ করেনি, যার কারণে মানুষ হতাহত হচ্ছেই।”
লম্বা ছুটি থাকায় এবার বেশ আগেই ঈদযাত্রা শুরু হয়। কিন্তু ঈদের তিনদিন আগে থেকে মহাসড়কগুলোতে যানজট শুরু হয়। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে প্রচণ্ড যানজটে ভুগতে হয় মানুষকে।
ঈদের পরে ফেরার সময়ও উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে যানজটে ভুগেছে মানুষ। ছিল বাড়তি ভাড়ার অভিযোগও।
শনিবার সকালে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের কড্ডার মোড়ে যাত্রীর চাপ দেখা গেছে। বাস, পিকআপ ও ট্রাকে করে যেভাবে পারছে, ঢাকার পথে ছুটছে।
সেখানে ঢাকাগামী বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী বেলাল হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় যানবাহনের কর্মীরা দ্বিগুণের বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। তারা বাসের প্রতিটি আসনের জন্য ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা চাইছে। ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছে।
ট্রাক ও পিকআপেও জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এই যাত্রীর।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, “সেতুর ওপরে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। এ কারণে ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারে সমস্যা ছিল। এর প্রভাবে সেতুর পশ্চিম পাড়ের সংযোগ সড়কে যানবাহনে ধীরগতি ছিল। সকাল ১০টার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।”
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অন্যান্য রুটের যাত্রীরাও।
শাকিল হাসান নামে এক ব্যক্তি ঢাকায় এসেছেন শরীয়তপুর থেকে। পদ্মা সেতুর ঠিক ওপার থেকে বসুমতি পরিবহনের বাসে দাঁড়িয়ে ঢাকায় আসতে আড়াইশ টাকা ভাড়া দেওয়ার কথা বলেন এই ব্যক্তি।
তিনি বলেন, “শ্যামলী পর্যন্ত বসে এলে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা টাকার মতো ভাড়া নিত বাসটি।”
শাকিল বলেন, “রাস্তায় গাড়ি খুবই কম। চার ঘণ্টা পর বাসটা পাই। কিন্তু ভাড়া বেশি রাখছে।
“শুধু বাস নয়, এলাকায় অটোরিক্সা, সিএনজির ভাড়াও তো ডাবল হইছে। আগে বাড়ি থেকে সেতুর (পদ্মা সেতুর) এই পারে আসতাম ৫০ টাকায়। ঈদের আগে-পরে সেটা ১০০ টাকা হইছে।”
আগের খবর
উত্তরাঞ্চল থেকে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ