Published : 06 Jun 2026, 11:39 AM
লালমনিরহাটের সীমান্তের তিনটি এলাকা দিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি।
তাদের কঠোর অবস্থান, অতিরিক্ত টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) পুশ ইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল।
এর আগে শুক্রবার ভোরে জেলার তিনটি পৃথক সীমান্ত এলাকায় মোট ৩৩ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এর মধ্যে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন অবস্থান করছিলেন।
এর পরপরই অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি। ফলে দিনভর শূন্যরেখা ও ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি ৩৩ জন।
পরে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে হাতীবান্ধার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়া সারডুবি সীমান্তের ৮৮৬ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় অবস্থানরত ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা তারকাঁটার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
একই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জনকেও বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।
অন্যদিকে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা বাকি ১০ জনকেও সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
স্থানীয়রা জানায়, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত গেট খুলে তাদের তারকাঁটার ভেতরে প্রবেশ করায়। পরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়।
১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি সীমান্ত পয়েন্টেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রংপুর বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুশ ইন করানোর চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা ও ফেন্সিং গেট ব্যবহার করে লোকজনকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী।
সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে 'ঠেলে দেওয়ার' চেষ্টা, বিজিবির বাধা