Published : 10 Jun 2026, 08:58 AM
রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে অনেক সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারির দর্শকদের। গ্যালারির এই প্রান্তে যে ওপরে ছাউনি নেই! দর্শকদের সেই কষ্ট অবশেষে দূর হতে চলেছে। গ্যালারির এই অংশে প্রথমবারের মতো বসছে ছাউনি। তাতে স্টেডিয়ামের কোনো অংশ আর ছাউনিবিহীন থাকছে না।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই বোর্ড সভায় অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার ও আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও ব্যয়বহুল পদক্ষেপটি হলো শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণ ও জিমনেসিয়ামের আধুনিকায়ন। এই প্রকল্পের বাজেট অনুমোদন হয়েছে মঙ্গলবারের সভায়।
তামিম অ্যাডহক কমিটির প্রধান থাকার সময়ই এটির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সপ্তাহ তিনেক আগে তিনি জানিয়েছিলেন, মিরপুরে একাডেমি ভবনের জিমনেসিয়ামের পাশের ফাঁকা জায়গাটিতে সুইমিং পুল তৈরি করা হবে। পাশাপাশি এখনকার জিমনেসিয়াম সংস্কার করে আরও বড় করা হবে এবং আধুনিক নানা সরঞ্জাম সংযোজন করা হবে।
মিরপুরে যে জিম এখন ব্যবহার করেন ক্রিকেটাররা, সেটি বেশ পুরোনো হয়ে গেছে এবং আধুনিক সময়ের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। সুইমিং পুল নির্মাণের ভাবনা বিসিবির অনেক বছরের, কিন্তু সেটি বাস্তবায়নের কোনো প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। বিভিন্ন সিরিজে বা ক্যাম্পের সময় পাঁচ তারকা হোটেলে সাঁতারের ব্যবস্থা করা হয়।
তামিম কিছুদিন আগে বলেছিলেন, এবার জিম ও সুইমিংপুল হবে সর্বাধুনিক।
“পৃথিবীর সেরাগুলোর সেরা যে ইকুইপমেন্টস আছে, ওগুলা দিয়ে আমরা এই জিমটাকে খুব সুন্দরভাবে জিম করে দেব। সঙ্গে সামনে সুইমিং পুল করে দেব। আইস বাথ, হট বাথের জন্য যেটা সাম্প্রতিকতম প্রযুক্তি, বারবার আইস এনে আইস বাথ করতে হবে না। মেশিনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ঠান্ডা করবে আর গরম করবে। ওগুলা যত কিছু আছে, আমরা করে দেব। এর মধ্যেই আমরা এই প্রক্রিয়াগুলো শুরু করে দিয়েছি।”
“জিম নিয়ে যে পরিকল্পনা আমরা করেছি, এই জিমটাকে পুরো সংস্কার করব। জায়গা এটাই থাকবে, ভেঙে একটু বড় করব। বড় করে পুরো সংস্কার করে যে ইকুইপমেন্টসগুলো এখন বিশ্বের সেরা কোম্পানির যেগুলো আছে, তাদের থেকে আনব। তাদের সঙ্গে আমরা এর মধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছি। তাদের সেরা ইকুইপমেন্টস দিয়ে একটা সুন্দর করে একটা যথাযথ জাতীয় জিম যেরকম হওয়া উচিত, সেরকম করে দেব।”
গত মাসে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজের হোয়াইটওয়াশ করায় যে যে বোনাস পাওয়ার কথা ছিল ক্রিকেটারদের, সেই অর্থ তারা উপহার দিয়েছেন এই প্রকল্পের জন্য। যদিও সেটি ব্যয়ের সামান্য একটু অংশ।
পূর্ব গ্যালারিতে ছাউনি বসানোর পাশাপাশি সাধারণ গ্যালারিগুলোর টয়লেট সংস্কার করা হবে। এটির বাজেটও অনুমোদন হয়েছে সভায়।
স্টেডিয়ামের মূল দুটি ড্রেসিং রুম, ক্রিকেটারদের ডাইনিং রুম ও মাঠের ভিউয়িং অ্যারেনা সংস্কারের বাজেটও অনুমোদন করা হয়েছে।
বিভিন্ন সিরিজ বা টুর্নামেন্টের সময় জাতীয় দলের জন্য সাধারণত বাস ভাড়া করে থাকে বিসিবি। এবার জাতীয় দলের জন্য একটি টিম বাস কেনার অনুমোদন হয়েছে এই সভায়।