সংঘর্ষের মধ্যে আহত পুলিশ সদস্য রাজ্জাক জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চান পরিবারের সদস্যরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Nov 2023, 01:46 PM
Updated : 1 Nov 2023, 01:46 PM

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত পুলিশের নায়েক আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত ৫৫ বছর বয়সী রাজ্জাকের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার।

প্রটেকশন বিভাগের উপ কমিশনার মেহেদী হাসান জানান, গত ২৮ অক্টোর সংঘর্ষের সময় নাইটিঙ্গেল মোড়ের কাছে মাথায় আঘাত পান রাজ্জাক।

“তার মাথার খুলি ভেঙে গেছে। সেটা আলাদা করে রেখে অপারেশন হয়েছে। আইসিইউতে রাখা হয়েছে তাকে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।”

রাজ্জাকের বড় ছেলে রাশেদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চিকিৎসকদের সাথে কথা হয়েছে আমাদের। তারা বলছেন, দেশে সর্বোচ্চ চিকিৎসাই দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চাইলে তারা অনুমতি দেবেন। আমরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারাও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলছেন পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে।” 

সেদিন সংঘর্ষের সময় আমিরুল হক পারভেজ নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রাজ্জাকসহ ৩১ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এদের কারো হাত, কারো পা আবার কারো বুকের হাড় ভেঙেছে।

বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আব্দুর রাজ্জাকসহ তিনজনকে দেখতে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, গত কয়েক দিনের নাশকরার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে,” বলেন তিনি।

অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) খ মহিদ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হাসপাতালে যারা আছেন, তাদের মধ্যে রাজ্জাকের অবস্থাই সবচেয়ে খারাপ।

“চিকিৎসকরা যদি সে ধরনের পরামর্শ দেন, তাহলে তাকে দেশের বাইরে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

রাজ্জাকের অবস্থা জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। একবার অস্ত্রোপ্রচার হয়েছে। কোনো রেসপন্স নেই। তার অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। বলতে পারেন একরকম কোমায় চলে গেছেন। তাকে সারিয়ে তুলতে সব ধরনের চেষ্টা আমরা করছি।”

ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি বাকি দুই পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে, আরেকজনের বুকে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানান তিনি।  

আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বড় অংশ চিকিৎসাধীন রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে। সেখান থেকে এরই মধ্যে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেলেও বুধবার পর্যন্ত ২৮ জন ভর্তি আছেন বলে পরিচালক ডিআইজি রেজাউল হায়দার জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “যারা ভর্তি আছেন, তাদের কারো হাত, কারো পা, কারো বুকের হাড়, কারো গলার হাড় ভেঙেছে। এদের সবাই ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশের দিন আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন।

“ভর্তি আছেন যারা, তাদের যে অবস্থা, লংটাইম চিকিৎসা দিতে হবে। চিকিৎসা নিয়ে যারা চলে গেছেন, তাদের একটা বড় অংশের স্বল্প সময়ে কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ নেই।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগ) আর এম ফয়জুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, রাজারবাগ হাসপাতাল পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য ৫০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল। এই হাসপাতালে প্রায় সব ধরনের চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে।

“এসব ঘটনায় (দায়িত্বপালনরত অবস্থায়) আহত পুলিশ সদস্যদের জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উচ্চ পর্যায় থেকে সরাসরি মনিটর করা হয়।যেখানে যতটুকু প্রয়োজন সেটা তাদের জন্য করা হয়।”

পুলিশের একটি ‘চিকিৎসা কল্যাণ ফান্ড’ আছে, সেখান থেকেও তাদের প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।