Published : 02 Jun 2026, 11:20 PM
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে জয়ের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, বৈশ্বিক সংস্থাটির ওপর মানুষের আস্থা ফেরাতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
মঙ্গলবার ওই নির্বাচনে বিজয়ের পর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সবার সভাপতি হব। আমার কার্যক্রমে সব সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হব।”
এর আগে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
নির্বাচনে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।
১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৯০ দেশ ওই ভোটে অংশ নেয়। খলিলুর রহমান ৯৯ এবং কাকোরিস ৯১ ভোট পেয়েছেন।
বিজয়ের পর দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের উপর আস্থা ফেরানোর জন্য ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কাজ এগিয়ে নিতে চান তিনি।
তিনি বলেন, “এমন একটা সময়ে জাতিসংঘ তার নবম দশকে প্রবেশ করছে, যখন আমাদের সংস্থা প্রতি আস্থা বিভিন্ন দিক থেকে পরীক্ষার মুখে পড়েছে। সংঘাত আর যুদ্ধের অভিঘাত, যার হাত থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষাই ছিল আমাদের সংস্থার লক্ষ্য। কিন্তু এখনো যুদ্ধ ও সংঘাত অসংখ্য মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখে ফেলছে। উন্নয়নের অর্জনগুলো ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত রয়ে যাচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
“মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি স্বত্বেও আমরা বিশ্বব্যাপী কিছু কিছু ক্ষেত্রে অধিকারের প্রশ্নে পিছু হটা এবং সংকুচিত হওয়া দেখতে পাচ্ছি।”
খলিলুর রহমান বলেন, এমন এক সময়ে এসব ঘটছে, যখন বহুপাক্ষিকতা নানাবিধ চাপের মুখে রয়েছে। এবং আর্থিক চাপের মুখে পড়ায় আমাদের সংস্থাটি তার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।
সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে একাগ্র থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজকে বাধাগ্রস্ত হতে দেব না।
“মতপার্থক্যকে অবজ্ঞা না করে সবার জন্য অভিন্ন ভিত্তি খুঁজব। ভৌগোলিক, লিঙ্গ এবং ভাষাগত ভারসাম্য রক্ষা করে আমি আমার দপ্তরকে গুছাব।”
জাতিসংঘে যে সব দেশের প্রতিনিধিদল ছোট, তাদের জন্য একটি দল তৈরি করাকে নিজের অগ্রাধিকারে রাখার কথাও বলেন খলিল।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদকে আমি কেবল একটা উপলক্ষ হিসেবে বিবেচনা করি না, বরং এটা একটা প্রক্রিয়া।
আস্থা তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “অব্যর্থভাবে জাতিসংঘ সনদকে সমুন্নত রাখব আমি এবং সভাপতির আচরণবিধি সম্পূর্ণ মেনে সভাপতির কাজ পরিচালনা করব। এক্ষেত্রে আমাকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি আমি।”
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন খলিল