Published : 02 Jun 2026, 09:32 PM
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি করার পাশাপাশি নিজ দেশের সরকারি দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নজির যেমন রয়েছে, তেমনি সভাপতি পদে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের উদাহরণও আছে।
তবে এই পদ পেলে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে দিয়ে রেখেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
ভোটের প্রচারের মধ্যে ১৩ মে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে তিনি বলেছিলেন, “নির্বাচিত হলে আমি সবার সভাপতি এবং পূর্ণকালীন সভাপতি হব। আমি জাতিসংঘের সনদ সমুন্নত রাখব। আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করব এবং বিশেষ করে ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর প্রতি মনোযোগ দেব।
“আমি সভাপতির আচরণবিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে সভাপতিত্ব করব। আমি আমার ব্যক্তিগত মতামতকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেব না এবং মতপার্থক্য উপেক্ষা না করে ঐক্যের পথ খুঁজব।”
তবে পূর্ণকালীন সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে এক বছরের জন্য ছুটি নেওয়ার বিষয়েও ধারণা দেন খলিলুর রহমান।
ওই মতবিনিময়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি কি পদত্যাগ করব? না। আমার প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আমাকে স্পষ্টভাষায় বলেছেন যে, তিনি আমাকে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছর সময় দেবেন। পদত্যাগ একমাত্র বিকল্প নয়। আমি ছুটিও নিতে পারি।”
জাতিসংঘের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থা ফেরানোকে কেন্দ্রে রেখে ছয়টি স্তম্ভের উপর বৈশ্বিক সংস্থাটির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “আমি প্রথম দিন থেকেই আপনাদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম, ইচ্ছুক এবং প্রস্তুত। আমি আপনাদের আস্থা ও সমর্থন কামনা করছি।”
নির্বাচিত হলে খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও থাকবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেবেন।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে সোমবার তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন। এখানে কোনো নিয়ম নাই যে, উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।”
এর আগে সভাপতি পদের দায়িত্ব পালনের সময় হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর সরকারি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার উদাহরণ টেনে করা আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখানে কোনো বাধ্যবাতকতা নাই। এটা পুরোপুরি ব্যক্তিগত পছন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত।”
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে সভাপতি পদে ভোটাভুটি হয়। এতে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।
১৯৩ দেশের প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দুই প্রার্থীকে ভোট দেন। এই দুই প্রার্থীর বাইরে নতুন কাউকেও কাগজে লিখে ভোট দেওয়ার সুযোগ সেখানে ছিল।
নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ১৯০টি। খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং সাইপ্রাসের কাকোরিস ৯১ ভোট পেয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রতিনিধি হিসেবে বসতে যাচ্ছেন খলিলুর রহমান।
৪০ বছর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশি রাজনীতিক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
নিজের কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন খলিলুর রহমান। জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখপাত্রের দায়িত্ব পালনের পর ৪১তম অধিবেশের সভাপতি হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহযোগীর পদেও ছিলেন তিনি।
১৯৯১ সালে জেনিভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন খলিলুর রহমান। এরপর ২৫ বছর নিউ ইয়র্ক ও জেনিভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি; ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক।
আরো পড়ুন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন খলিল
জাতিসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে ৬ স্তম্ভের ওপর কাজ করতে চান খলিলুর