Published : 14 May 2026, 09:07 PM
জাতিসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে ছয়টি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক সংস্থাটির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
সভাপতি পদের আসন্ন নির্বাচনে প্রচারের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় বুধবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সেশনে এ পরিকল্পনার তুলে ধরেন তিনি।
সভাপতি পদে খলিলুর রহমানের পরিকল্পনার প্রথমে রয়েছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কাজ থেকে উৎসাহ নিয়ে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তায় সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া।
দ্বিতীয় পরিকল্পনায় জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি এবং সেই অনুযায়ী সরবরাহের মধ্যে ফারাক কমিয়ে আনতে চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তৃতীয় পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যক্রমকে সহায়তা এবং মহাসাগর ও স্থলভাগের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
পরিকল্পনার চতুর্থ স্তম্ভে মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাজকে সমর্থনের পাশাপাশি বহু- অংশীদারত্বের মাধ্যমে মানবাধিকার ব্যবস্থার অভ্যন্তরে ও বাইরেও সমন্বয় সাধনে কাজ করার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অনিবার্য বাস্তবতা মেনে নিয়ে সে বিষয়ে জাতিসংঘের তরফে ভূমিকা নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে খলিলুর রহমান বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, বিগ ডেটা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ উদীয়মান প্রযুক্তিগুলো বিপুল সুযোগ নিয়ে আসে। কিন্তু এর সঙ্গে বৈষম্য, পক্ষপাতিত্ব এবং অপব্যবহারের মতো গুরুতর ঝুঁকিও রয়েছে।
“প্রশ্নটি এটা নয় যে, আমরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করব কি না; আমরা অবশ্যই করব। বরং প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে এগুলোকে বিচক্ষণতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে পরিচালনা করব এবং সবার জন্য সমানভাবে সহজলভ্য করে তুলব।”
নিজের ষষ্ঠ পরিকল্পনায় বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিল রেখে জাতিসংঘেরও সংস্কারে কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমাদের সংস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য সম্মিলিতভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, জাতিসংঘ সংস্কারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং আরো ভালোভাবে কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম।”
সদস্য দেশগুলোর কাছে ভোট এবং সমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে আমি সবার সভাপতি এবং পূর্ণকালীন সভাপতি হব। আমি জাতিসংঘের সনদ অবিচলভাবে সমুন্নত রাখব। আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করব এবং বিশেষ করে ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর প্রতি মনোযোগ দেব।
“আমি সভাপতির আচরণবিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে সভাপতিত্ব করব। আমি আমার ব্যক্তিগত মতামতকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেব না এবং মতপার্থক্য উপেক্ষা না করে ঐক্যের পথ খুঁজব।”
তিনি বলেন, “আমি প্রথম দিন থেকেই আপনাদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম, ইচ্ছুক এবং প্রস্তুত। আমি আপনাদের আস্থা ও সমর্থন কামনা করছি।”
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২ জুন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচন হবে। আঞ্চলিকভাবে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে সভাপতি হওয়ার কথা।
বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নির্বাচনের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল।
একই পদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকার কারণে বাংলাদেশ প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও প্রত্যাহার করেনি। এরপর ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের প্রার্থিতা পুনর্জ্জীবিত হয়।
এর মধ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৌহিদ হোসেনের বদলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
সভাপতি পদে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।
এর মধ্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দিয়েছে ওআইসি। প্রার্থিতার পক্ষে প্রচার চালাতে তুরস্ক হয়ে নিউ ইয়র্কেও গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।