Published : 04 Jun 2026, 01:50 AM
কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় দেশে ‘সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি’ হওয়ার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এজন্য সরকার এ প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আনার কাজে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ ও হয়রানি কমাতে সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন করার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ট্যাক্সেশন’ ব্যবস্থাকে ডিজিটালের আওতায় আনা সবেচেয়ে বেশি ‘অ্যাপ্রোপিয়েট’।
“সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে এই ট্যাক্সেশনে। আমরা ওখানে খুব জোর দিচ্ছি- কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং অন্যান্য জায়গাতেও।”
বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ (ডিএফআই) আয়োজিত ‘প্রি-বাজেট রাউন্ড টেবিল ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় বন্দরের খরচ কমানো এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের দুর্নীতির প্রসঙ্গও টানেন তিনি।
ব্যবসায় ব্যয় কমিয়ে আনাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বন্দরে যে ব্যয় হয় মানুষের, মাল আসার পর থেকে মাল খালাস করা পর্যন্ত, ওর যে ব্যয়- ‘উই ক্যাননট অ্যালাও’।”
তিনি বলেন, অনেক কাঁচামাল এনে সেগুলো খালাসের আগে যাচাইয়ের জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়। এর ফল পেতে অনেক সময় লেগে যাওয়ায় বন্দর ও ব্যাংকের খরচ বাড়ে। একই সঙ্গে সেসব কাঁচামাল ছাড় হতে দেরি হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ অনেক দিনের।
এছাড়াও কাস্টম হাউজের পণ্য যাচাইয়ের স্ক্যানিং মেশিন নষ্ট থাকার কারণেও একইধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের বলে তুলে ধরেন তিনি।
স্ক্যানিং যন্ত্র নষ্টের পেছনে কাস্টমস কর্মকর্তাদের 'ঘুষ খাওয়ার' প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই স্ক্যানিং মেশিন থাকলেও নষ্ট হয়ে যায়। কেন নষ্ট হয়ে যায়? উই অল আন্ডারস্ট্যান্ড।
“স্ক্যানিং মেশিন কাজ করলে তো পাম গ্রিসিং হবে না। সো, স্ক্যানিং মেশিন গোজ আউট অব অর্ডার।"
এ দুই বিষয়ের সমাধানে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এনবিআর চেয়ারম্যানকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
ল্যাবরেটরি স্থাপন, স্ক্যানিং যন্ত্র কেনা ও দেখভাল করার সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যুক্ত থাকবেন বলে নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এসব সংকট বিবেচনায় কর নীতি প্রণয়নের ক্ষমতা ‘এককভাবে’ আমলাতন্ত্রের ওপর না রাখারও কথা বলেন তিনি।
বর্তমানে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সম্পর্কৃত নীতি প্রণয়ন করেন কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “কাস্টমসের সবচেয়ে বড় প্রবলেম হচ্ছে পলিসি মেকিং। কারণ এটাই সেই জায়গা যেখান থেকে সবকিছু 'রং' হয়। যারা পলিসি মেক করে ওদের সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, মানুষ, চাহিদা–আই মিন, দে ডোন্ট নো দ্য 'ডিএনএ অব বাংলাদেশ'।
"সুতরাং আমরা বলছি, ঠিক আছে, পলিসি মেকিং উইল নট বি ডান, ক্যাননট বি ডান সোললি বাই দ্য ব্যুরোক্র্যাটস।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু।
আলোচনা সঞ্চালনা করেন ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভের প্রধান কৌশলবিদ আশফাক জামান।