পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার কিছু নাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
“গণঅভ্যুত্থানের পরে প্রত্যাশা করি রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে।”
পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বিরোধী দল যেসব অভিযোগ তুলেছে তাতে আমলে নেওয়ার মত কোনো বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
অভ্যুত্থানের পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, "আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরে প্রত্যাশা করি রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে। প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছেন। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমলে নেওয়ার মত কোনো বক্তব্য ওখানে নাই।"
সচিবালয়ে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতায় ভোগার কথা জানিয়েছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এসব অসুস্থতার কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন বলে পদত্যাগপত্রে লিখেছেন সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইনকিলাব মঞ্চ।
তবে পদত্যাগের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনে এ ধরনের দাবি উড়িয়ে দিয়ে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা সামনে এনেছেন সাহাবুদ্দিন।
সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দুই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করা বা না করা কোনো কাজের জন্য তাকে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা চালু রাখা এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য পরোয়ানা জারি করা যাবে না।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পুরোটা এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর এই সময়ে তার সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বিষয়টি উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী "তিনি বিধি বিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে তিনি প্রিভিলেজ পাবেন এবং ফৌজদারি বিষয় কোনো আলাপ আলোচনা করা যায় না। এর বহির্ভূত সময় কেউ যদি কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকে সেটা তাদের স্বাধীনতা আছে দিতে পারবে। তবে আমরা আমলে নেওয়ার মত কোনো বিষয় এখানে দেখি না।
“তিনি আইনানুগ যা সুবিধা পাবেন অবশ্যই পাবেন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ- পিজিআর সুবিধা পাওয়ার ৬ মাসের বিধান আছে। এছাড়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তার নিরাপত্তার বিষয় গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহের পদক দেওয়ার আগ মুহূর্তে বাতিল করা হলো এখনো তা দেওয়া হয়নি
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ পদকের যে তালিকাটা খুব তাড়াহুড়া করে করা হয়েছিল। সেই তালিকা পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখি কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। সাথে কিছু অনিয়মের ধরা পড়েছে।”
যাচাই-বাছাই করে সেটা ‘বিশুদ্ধ করে’ দ্রুততার সময়ে পদক প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া 'তিন নেতা যদি একসাথে হয় তাহলে এ সরকার এক সপ্তাহ টিকবে না'- এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "উনার বক্তব্য এক সপ্তাহ পর কি দেয় অপেক্ষা করি।"
আরও পড়ুন-
