Published : 26 Jul 2026, 02:47 PM
ঝঞ্ঝামুখর ৩৯ মাস দায়িত্ব পালন করে পদত্যাগের পর সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন।
রোববার দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তার গাড়িবহর বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে যায়। বিকাল ২টা ৫৮ মিনিটে সেই গাড়ি গুলশানের ১২৩ নম্বর রোডে তার বাসভবনে পৌঁছায়।
এখন সপরিবারে এ বাড়িতেই থাকবেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেও তিনি এ বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন।
রোববার সকাল থেকেই ওই বাড়ির সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, এপিবিএন, সেনাবাহিনী এবং এসএসএফ সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়।
আগের দুদিন ওই বাড়িতে গিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলতে দেখা যায়। আসবাবপত্র পরিষ্কার করার পাশাপাশি বাড়ির নিচতলার বসার জায়গাটি নতুন করে রং করা হয়।

নানা জল্পনা কল্পনার পর গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন।
পরে জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে স্পিকার জানান, তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। এক সময় তিনি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার। পরে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে আওয়ামী লীগ সরকার।
দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তিনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা চলে যান ভারতে।
এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আন্দোলন আর বিক্ষোভের মুখে পড়েন মো. সাহাবুদ্দিন।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তার জন্য পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হয়ে এসেছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপ্রধান।
তার পদত্যাগের কারণ নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই কয়েকজন কর্মী তার ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে নেওয়া শুরু করেছিলেন। পদত্যাগের পর তার গুলশানের বাড়িতেও যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। বঙ্গভবনে কর্মীরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান। তবে এসব আনুষ্ঠানিকতায় সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ছিল না।
রোববার তার বঙ্গভবন ছাড়ার কথা থাকায় রাস্তায় ভিড় করে ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হয়।
দুপুরে বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপর বাড়তে দেখ যায়। এরপর এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৮টি গাড়ি এর একটি বহর বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে যায়।
পদত্যাগের পরও নিয়ম অনুযায়ী আগামী ছয় মাস রাষ্ট্রীয় ‘প্রটোকল’ সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া ২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাবেন।
এছাড়া একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট, সরকারি নির্ধারিত দাপ্তরিক ব্যয়, সরকারি অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার, বাসভবনে টেলিফোন সংযোগ, মন্ত্রীর সমপরিমাণ চিকিৎসাসুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের ভেতরে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুবিধা পাবেন।