২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাহাড়ে ২ দশক ধরে বন্ধ থাকা আবাসিক বিদ্যালয় চালুর উদ্যোগ

২০০৪ সালে তিনটি প্রকল্পের জন্য পাঁচ কোটি টাকা করে মোট ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সমির মল্লিক সমির মল্লিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 02:52 PM

Updated : 28 Sep 2026, 02:52 PM

খাগড়াছড়ির রামগড়ে বন্ধ থাকার দুই দশক পর একটি আবাসিক বিদ্যালয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০৬ সালে বিদ্যালয় ভবনটির উদ্বোধন হলেও সেটি চালু হয়নি। অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। ২০০৬ সালে ওয়াদুদ ভূঁইয়াই ভবনটির উদ্বোধন করেছিলেন।

বিদ্যালয়টি মূলত দুর্গম পাহাড়ের অনাথ শিশুদের শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছিল। জনবল নিয়োগ করেও নানা কারণে তখন সেটি চালু করা যায়নি। বিদ্যালয়টি আবার চালু করা গেলে পাহাড়ে ঝরেপড়া শিক্ষার্থী রোধে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রামগড় বাজার থেকে তিন কিলোমিটার দূরে তৈচালা পাড়ায় বিদ্যালয়টিতে গত সপ্তাহে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের ওপর ১২ একর জায়গাজুড়ে আবাসিক বিদ্যালয়টির অবস্থান। সীমানাপ্রাচীর পেরোতেই একতলা বিদ্যালয় ভবন। পাশে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হোস্টেল। শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে আলাদা ভবন।

বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে দেখা যায়, ভেতরের দেয়ালগুলো লতায় ঢাকা। শ্রেণিকক্ষের দরজা ও জানালায় মরচে ধরেছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে ছাদ থেকে। নষ্ট হয়ে গেছে বেঞ্চ, চেয়ার ও ব্ল্যাকবোর্ড।

হোস্টেল ভবনে হলরুম, ডাইনিং, অফিসকক্ষসহ নানা সুবিধা রয়েছে। তবে ভেতরে থাকা খাট, লেপ, তোশক, বেডশিট, বালিশ, মশারিসহ নানা আসবাবে পচন ধরেছে। বিদ্যালয় ও আবাসিক সুবিধা চালানোর মত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, পানির পাম্প, পানির ট্যাংক, রান্নাঘরসহ প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস রয়েছে ভেতরে। তবে অধিকাংশ জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, পাহাড়ের অনাথ বালক-বালিকাদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি আবাসিক বিদ্যালয় নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে তিনটি প্রকল্পের জন্য পাঁচ কোটি টাকা করে মোট ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২০০৫ সালে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় এবং বান্দরবানের রুমা উপজেলায় নির্মিত দুটি বিদ্যালয় চালু হয়। তবে রামগড় উপজেলার বিদ্যালয়টি চালু করা যায়নি।

২০০৭ সালে রামগড় আবাসিক বিদ্যালয়ের জন্য মাস্টাররোলে চারজন গার্ড, দুজন টেবিল বয়, দুজন আয়া, দুজন পিয়ন ও একজন ঝাড়ুদার নিয়োগ করা হয়। এ ছাড়া ২০০৮ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ৬০ জন অনাথ বালক ও ৬০ জন বালিকার ভর্তির দরখাস্ত জমাও নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয় চালু না হওয়ায় কর্মীদের নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করা হয়।

বিদ্যালয়ের উদ্বোধনী ফলকটি এখনও রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়া এটির উদ্বোধন করেন।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, “এখানে আমরা আবাসিক স্কুলের অবকাঠামো শুরু করছিলাম। পরবর্তীতে যখন ওয়ান-ইলেভেন আসে এবং আমারও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তখন এই কাজটা প্রজেক্টটা বন্ধ হয়ে যায়।

“এখন আবাসিক বিদ্যালয়টি চালু হলে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ হবে। অনাথ, এতিম এবং যারা দরিদ্র, তারা এখানে বিনামূল্যে পড়াশোনা করবে। উন্নত মানের শিক্ষক থাকবে, উন্নত ব্যবস্থাপনা থাকবে।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অনুপ কুমার চাকমা বলেন, “আবাসিক স্কুল ভবনটি পরিদর্শন করেছি। আমি অবাক হচ্ছি, কেন এতদিন বন্ধ ছিল? এখানে রাজনীতির ব্যাপার না। এতগুলো সরকারি টাকা খরচ হওয়ার পর এটাকে ভূতের বাড়ি করে রাখা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এটা জানতামও না। আমরা আবাসিক বিদ্যালয়টি আবার নতুন করে চালু করার জন্য উদ্যোগ নেব।”