Published : 06 Apr 2026, 02:53 PM
কেবল শিক্ষকদের জন্য আলাদা পে-স্কেল গঠন করা উচিত বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মনোভাব প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষক মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় ধরে রাখতে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এই জায়গাটিতে আমার মন্তব্য হলো আমরা ফিন্যান্সিয়ালি তাদেরকে আরও যে সাপোর্টটা দেব, এই সাপোর্টটা অন্যান্য স্কেলের সাথে তুলনা দিলে চলবে না। এই তুলনা দিলেই কেবল তুলনা চলতে থাকে, মামলা হতে থাকে, আন্দোলন হতে থাকে।
“আমি মনে করি শিক্ষকদের জন্য আলাদা একটা পে-স্কেল গঠন করা উচিত। হোয়েদার হাই অর লো ডাজ নট ম্যাটার, ইটস কমপ্লিটলি ডিফারেন্ট।"
জালিয়াতি বন্ধে আইন হালনাগাদ হচ্ছে
পাবলিক পরীক্ষায় সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার ঠেকাতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন হালনাগাদ করে কঠোর করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী মিলন।
তিনি বলেন, “একটি আইন ছিল ১৯৮০পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট। ওই আইন দিয়ে আমি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত নকল প্রতিরোধ করেছিলাম। ক্লিয়ার? এখন মানুষকে স্মার্ট হয়ে গেছে। এখন ডিজিটাল অনলাইন শুরু হয়ে গেছে। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন এই আইনটা করেছিলেন, তখন কি ডিজিটাল-অনলাইন ছিল?
“তাহলে ডিজিটাল এটাতে ইনক্লুড করতে হবে। তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চিন্তা করে নাই যে পলিটিশিয়ানরা আর শিক্ষকরা মিলে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে এই অবস্থা করবে। সেইজন্য ওই ধরনের আইন ছিল না।
“এখন আমি এসেই এই আইন পরিবর্তনের জন্য অলরেডি আমি ক্যাবিনেটে উঠিয়েছি। আইনের ড্রাফটের মধ্যে কিছু দুর্বলতা ছিল বলে এটাকে আবার আইন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। এখানে ডিজিটাল অ্যাক্ট ইনক্লুড করা হয়েছে।"

বদলাচ্ছে পাবলিক পরীক্ষার সংজ্ঞা
নতুন আইনে পাবলিক পরীক্ষার সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে জানিয়েছেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “এবার আমি পাবলিক পরীক্ষার ডেফিনেশন পাল্টিয়েছি। অ্যানি এক্সামিনেশন কন্ডাক্টেড বাই অ্যানি গভর্নমেন্ট অথরিটি, অ্যানি পাবলিক অথরিটি, অ্যানি সিভিল অথরিটি অল আর পাবলিক এক্সামিনেশন।
“তার মানে নকল শুধু আমার স্কুলে হবে, কলেজে হবে তা না, কোথাও হতে পারবে না। বুঝতে পেরেছেন তো?”
অনিয়মে পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী মিলন। একইসঙ্গে খাতা মূল্যায়নের নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণে শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এহছানুল হক মিলন বলেন, “পরীক্ষায় নকল বন্ধ করা যেমন জরুরি, তেমনিই খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত নিয়ম না মানলে তা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
“শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীরা যেন নিজ যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।"
পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বজায় রাখা এবং প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আগে খাতা মূল্যায়নের সময় ভিন্ন রঙের কলম ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে নম্বর বাড়ানোর প্রবণতা ছিল, যা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ধরনের অনিয়ম আর চলবে না।”
‘শিক্ষকরাই নকল বন্ধ করেছিলেন’
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকরাই নকল বন্ধ করেছিলেন মন্তব্য করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “তাহলে প্রমাণ হল যে, ২০০৬ সালের পরে আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে আপনারা নকলে সহজ শুরু করে দিছেন।
“কেন? বিকজ গভর্মেন্ট যা চায়, আপনারা তা করেছেন। এটা হল ইন্টেনশন অব গভর্মেন্ট।"
‘ডিজিটাল এডুকেশনে অভ্যস্ত হতে হবে’
শিশুদের ডিজিটাল এডুকেশনে অভ্যস্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, "ডিজিটাল এডুকেশনে আমাদেরকে অ্যাডমিটেড করতে হবে। তাদেরকে অভ্যস্ত বানাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই। কারণ এডুকেশন যে গ্লোবাল কমিউনিটি।"
একদিন অনলাইন, একদিন অফলাইন ক্লাসের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "একদিন অনলাইনে শিখলো, আরেকদিন অফলাইন আপনাকে স্কুলে আসতে হল। কোভিডের সময় আমরা দেখেছি বাচ্চারা আনসফল হয়ে গিয়েছে। আমরা সেটাও করছি না।
“আসো স্কুলে একদিন, আরেকদিন তুমি বাসায় থাকো। এইভাবে তাদের আমরা সেটা করছি।"
ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল্লাহ, ময়মনসিংহ-৪ আসনের আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিয়া নুরুল হক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম।