Published : 07 Jun 2026, 02:24 PM
ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে শুকরিয়া আদায় করেন আইনজীবীসহ উপস্থিত অন্যরা।
তখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া পাঠ করছিলেন সোহেল রানা। আর স্বপ্না ছিলেন নির্বাক, কিন্তু অশ্রুসিক্ত।
রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের রায় পড়ার সময় রোববার এসব দৃশ্য দেখা যায়।
রায় ঘোষণার আগে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে এবং পৌনে ৯টার দিকে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সোহেলকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের রাখা হয় মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রথমে সোহেলকে এজলাসে তোলা হয়। মিনিট দশেক পর ওঠানো হয় স্বপ্নাকেও। তাদের মাথায় হেলমেট, শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল।
কাঠগড়ায় ওঠার পর দোয়া-কালাম পড়তে থাকেন সোহেল। আর স্বপ্নাকে দেখাচ্ছিল নির্বাক। তবে তাকে কাঁদতে দেখা যায়।
বিচারক মাসরুর সালেকীন ১১টায় এজলাসে ওঠেন। এরপর তিনি রায় পড়া শুরু করেন।
বিচারক রায়ের সারমর্ম তুলে ধরেন। আসামির জবানবন্দি, সাক্ষীদের দেওয়া সাক্ষ্য পড়ে শোনান। পরে আদালত দুই আসামির ফাঁসির রায় ঘোষণা করে।
রায় শুনে উপস্থিত আইনজীবীসহ অন্যরা শুকরিয়া আদায় করেন।
রায়ের পর স্বাভাবিক দেখা গেছে সোহেলকে। তবে স্বপ্নাকে কাঁদতে দেখা যায়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, আসামিপক্ষসহ সবাই।
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, রায়ে শতভাগ খুশি। এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা—সেটা আমি পেয়েছি।
“ইনশাআল্লাহ, আমি শতভাগ আশাবাদী রায় দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহ পাকের রহমত ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “রামিসার বাবা ন্যায়বিচার পেয়েছে, আমরা সন্তুষ্ট।”
আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেছেন, “আসামি সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজে দোষ স্বীকার করেন। রায়ে সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে।
“ন্যায় বিচার পেয়েছি। অপরাধী অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।”