Published : 13 Jan 2026, 09:52 PM
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অভিযানে আটকের পর বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনায় ‘তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।
শামসুজ্জামানের মৃত্যু যেভাবেই হোক না কেন-অভিযোগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠূ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।
৫৫ বছর বয়সী শামসুজ্জামান জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি জীবননগর বসুতি পাড়ার মৃত আতাউর রহমানের ছেলে।
পরিবারের সদস্য ও পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, শামসুজ্জামানকে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তার ওষুধের দোকান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটক করে। পরে তাকে ওষুধের দোকানের পেছনে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানকার চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা বলেছেন, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। তখন ভেতরে সেনা সদস্যরা আটকা পড়েন। তারা ফটক আটকে দেন। রাতেই হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন।
তারা অভিযোগ করতে থাকেন, শামসুজ্জামানকে মারধর করা হয়েছে। এতে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাতে বিএনপি নেতাকে সেনা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আটক করে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও স্বজনরা বলেছেন। অভিযানে পুলিশ ছিল না। আমরা বিষয়টা মরদেহ হাসপাতালে আনার পর জানতে পেরেছি। সেখানে স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। আমি ও জেলা প্রশাসক মহোদয় সেখানে গিয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”
বিকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে বলা হয়েছে।
এতে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে ক্যাম্পের কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যদেরকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন মনে করে, অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকালে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আনীত ‘নির্যাতনে মৃত্যুর’ অভিযোগের বিষয়টি অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত যা ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
“যে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি রাখে–কারণ রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা যে কোনো ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি দায়িত্ব।”
ঘটনার ‘সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চপদস্থ’ তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে আইএসপিআর। তারা বলেছে, “তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আগের খবর:
আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু 'অনাকাঙ্ক্ষিত, সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার': আইএসপিআর