ব্রাসিলিয়ায় তাণ্ডব: বোলসোনারোর সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

ব্রাসিলিয়ার জননিরাপত্তা প্রধান আন্দেরসন তোহিসকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Jan 2023, 04:31 AM
Updated : 11 Jan 2023, 04:31 AM

ব্রাজিলের রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনায় ব্রাসিলিয়ার জননিরাপত্তা প্রধান আন্দেরসন তোহিসকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক। তোহিস কট্টর ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর মন্ত্রিসভার বিচারমন্ত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার বিচারক আলেকসান্দ্রি জি মোরাইস এ নির্দেশ দেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা। 

তোহিস চলতিমাসেই ব্রাসিলিয়ার জননিরাপত্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আর তিনি দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই বোলসোনারোর হাজার হাজার সমর্থক রাজধানীতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ, কংগ্রেস আর সুপ্রিম কোর্টের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজিরবিহীন তাণ্ডব চালায়।

তবে তোহিসকে কী অভিযোগে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। তোহিসও রয়টার্সের এক মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, তারা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছে না।  

 রোববার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে চালানো হামলা থামাতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যর্থ হওয়ার পর সমালোচনার মুখে ওইদিনই তোহিসকে তার দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একইদিন এর আগে তোহিস স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি তার পারিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতে ছুটি কাটাচ্ছেন। বোলসোনারোও এখন সেখানেই আছেন।

রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক ব্রাসিলিয়ার এক অভিজাত এলাকায় তোহিসের পারিবারিক বাসভবনে পুলিশ দেখেছেন; ওই এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, পুলিশ অনেকগুলো ব্যাগ নিয়ে চলে গেছে।

সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরের অপরপাশে বোলসোনারোর সমর্থকদের একটি শিবির ভেঙে দেয় সেনারা। সেখান থেকে প্রায় ১৫০০ বিক্ষোভকারীকে আটকের পর তাদের একটি জিমনেসিয়ামে রাখা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

রোববার সরকারি ভবনগুলোতে ভাংচুর চালানোর আগে বিক্ষোভকারীরা এখান থেকেই মিছিল নিয়ে গিয়েছিল।  

গত ৩০ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যাওয়ার পর কট্টর ডানপন্থি বোলসোনারো ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ে জালিয়াতির অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও তার সমর্থকদের সহিংস বিক্ষোভের ইন্ধন জুগিয়েছে। এই শিবিরে থাকা তার সমর্থকরা সামরিক বাহিনীকে অভ্যুত্থান করে লুলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছিল।  

মঙ্গলবার বিকালে এখান থেকে ৫২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৫৯৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় যাদের অধিকাংশই বয়স্ক মানুষ, শিশুসহ মা অথবা স্বাস্থ্য সমস্যা আছে এমন লোকজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিচারক মোরাইস ‘গণতন্ত্র-বিরোধী’ বিক্ষোভ নিয়ে চলমান তদন্তগুলো পরিচালনা করছেন; মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি অভ্যুত্থানের ডাক দেওয়া ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ফেডারেল পুলিশের নতুন প্রধানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “ব্রাজিলের প্রতিষ্ঠানগুলো নত হবে না এবং গণতন্ত্র জয়ী হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক