Published : 13 Jun 2026, 08:21 AM
কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে সমালোচনাকে কিছু লোক বাড়াবাড়ির পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করেন তার জাতীয় দল সতীর্থ উসমান দেম্বেলে। ব্যালন দ’র জয়ী ফরোয়ার্ড বললেন, এসব সমালোচনা প্রায়ই ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে যায় এবং ফ্রান্স অধিনায়কের ছোটখাটো বিষয়গুলোকেও আলোচনার বিষয়বস্তু বানিয়ে ফেলা হয়।
২০২৪ সালে পিএসজি ছেড়ে রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে ফরাসি ফুটবলের আলোচিত ব্যক্তিত্ব হয়ে আছেন এমবাপে। দুর্দান্ত গোলস্কোরার হওয়া সত্ত্বেও সমালোচনার শিকার হন তিনি। এই মৌসুমে তার ক্লাব কোনো শিরোপাই জিততে পারেনি।
উগো লরিস আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর, ২০২৩ সালে ফ্রান্সের অধিনায়কত্ব পান এমবাপে। তারপর থেকে কিছু বিশেষজ্ঞ ও সমর্থক জাতীয় দলে তার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিয়মিত। এই ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স, জনসমক্ষে উপস্থিতি, এমনকি তার আচরণের ছোটখাটো দিকগুলো নিয়েও ফ্রান্সে নিয়মিত প্রশ্ন তোলা হয়।
বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কায় শুক্রবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে দেম্বেলে বলেন, এমবাপের ওপর লোকজনের নজরদারির মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এবং তা অনেক সময়ই ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়।
“তাকে নিয়ে সমালোচনা খুব, খুব অন্যায্য। কিছু লোক কিলিয়ানের সমালোচনা করতে গিয়ে একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলে।”
এমবাপেকে অন্য খেলোয়াড়দের থেকে ভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করা হয় বলে মনে করেন দেম্বেলে।
“সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড় এবং মাঠের বাইরে খুব ভালো মানুষ। কিছু লোক সমালোচনায় বাড়াবাড়ি করে, কারণ সে কিলিয়ান এমবাপে। তাদের উচিত নয় তার পেছনে লেগে থাকা। সে জুতার ফিতা বাঁধুক বা না বাঁধুক, মোজা পরুক বা না পরুক... এটা বাড়াবাড়ি। সেও তো একজন মানুষ।”
“ফ্রান্স দলে আমাদের জন্য সে খুবই ভালো, সে একজন নেতা।”
ফ্রান্সের ডাগআউটে এক দশকের বেশি সময় কাটানো দিদিয়ে দেশম দায়িত্ব ছাড়বেন বিশ্বকাপের পর। কোচেরও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন দেম্বেলে।
“এক কথায় তিনি অসাধারণ কোচ। ফরাসি জাতীয় দলের কোচদের মধ্যে তিনি চিরকাল একজন কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন।”
দেশমের অধিনায়কত্বে ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় ফরাসিরা। কোচ হিসেবে দলকে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব এনে দেন তিনি ২০১৮ সালে। চার বছর পর আবার ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয় দলটি।
দেশমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের সম্ভাবনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে, এই ভাবনাকে স্বাগত জানান দেম্বেলে।
“আমরা আশা করি, একদিন তাকে ফ্রান্সের বেঞ্চে স্বাগত জানাতে পারব। আমি নিশ্চিত, তিনি দারুণ কাজ করবেন।”
১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ছিলেন জিদান। পরে রেয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে দারুণ সাফল্য পান তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্সের কোচের পদের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে তার নাম। কিন্তু দেশম দায়িত্বে থাকাকালীন বারবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন জিদান।