গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য ‘চূড়ান্ত ফরমুলার’ খোঁজে মধ্যস্থতাকারীরা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন বলেছেন, ‘এখনও অনেক কাজ করা বাকি, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস একটি সমঝোতা চুক্তি সম্ভব।’

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 09:24 AM
Updated : 7 Feb 2024, 09:24 AM

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস গাজার লড়াইয়ে দীর্ঘ বিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে দেওয়া এক প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার পর ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের পার্থক্যগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করার চেষ্টায় কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে প্যারিসে এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা প্রধানরা মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের একটি রূপরেখা তৈরি করেছিলেন, মঙ্গলবার হামাস ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, তাদের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সমাপ্তি ঘটাতে; ত্রাণ, আশ্রয় ও পুনর্নির্মাণ নিশ্চিত করতে, গাজার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে এবং বন্দি বিনিময়ের পর্যায়ে পৌঁছতে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে ব্যাপক ও পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে চায় তারা।

এরপর মধ্যপ্রাচ্য সফরে কাতারের রাজধানী দোহায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন জানিয়েছেন, বুধবার তিনি ইসরায়েল সফরে যাওয়ার পর দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে হামাসের সাড়া নিয়ে কথা বলবেন।

ব্লিনকেন বলেন, “এখনও অনেক কাজ করা বাকি, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস একটি সমঝোতা চুক্তি সম্ভব আর এটি অপরিহার্য।

কাতার হামাসের জবাবকে সামগ্রিকভাবে ‘ইতিবাচক’ বলে অভিহিত করেছে আর মিশরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামাস ‘নমনীয়তা’ দেখিয়েছে।

“যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত ফরমুলা অনুযায়ী একটি চুক্তিতে পৌঁছতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো আমরা,” মিশরের রাষ্ট্রীয় তথ্য পরিষেবার প্রধান দিয়া রাশওয়ান এমনটি বলেছেন বলে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত রূপরেখা আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত কিছু কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রথম পর্বে যুদ্ধবিরতি অন্তত ৪০ দিন স্থায়ী হবে, এ সময় হামাস তাদের হাতে বন্দি ইসরায়েলি অবশিষ্ট জিম্মিদের মধ্যে থেকে শুধু বেসামরিকদের মুক্তি দেবে।

পরের পর্বগুলোতে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের বিনিময়ে হামাস জিম্মি ইসরায়েলি সেনাদের মুক্তি দেবে ও ইতোমধ্যে মৃত জিম্মিদের দেহ ফেরত দেবে। যুদ্ধবিরতির সময় গাজায় খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, হামাসের সাড়ায় চুক্তির দিকে ‘কিছুটা গতি’ দেখা গেছে।

তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছতে হামাস না ইসরায়েল তাদের কট্টর অবস্থান থেকে সরে নমনীয়তা দেখিয়েছে তা পরিষ্কার হয়নি।

আরও পড়ুন:

Also Read: গাজায় যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হামাসের হাতে: যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা

Also Read: ব্লিনকেনের সফর যুদ্ধবিরতি আনবে, আশায় গাজার ফিলিস্তিনিরা

Also Read: গাজায় হামলার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পঞ্চম সফরে ব্লিঙ্কেন