ব্লিনকেনের সফর যুদ্ধবিরতি আনবে, আশায় গাজার ফিলিস্তিনিরা

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অন্তত ৪০ দিনের জন্য লড়াইয়ে বিরতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

রয়টার্স
Published : 5 Feb 2024, 05:08 PM
Updated : 5 Feb 2024, 05:08 PM

গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলার মুখে গাদাগাদি করে থাকা ফিলিস্তিনিরা সোমবার বলেছে, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বয়ে আনবে বলেই তারা আশা করছে।

গাজায় অধিবাসীদের শেষ আশ্রয়স্থলে ইসরায়েল নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছে। এমন একটি সময়েই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় লড়াইয়ে বিরতি নিয়ে চুক্তির জন্য আলোচনা চালাতে মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন ব্লিনকেন।

সফরের শুরুতেই সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছেন তিনি। গত সপ্তাহে কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এ প্রস্তাব গাজায় চার মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটাবে কিনা এ বিষয়ে আরও বেশি নিশ্চয়তা চাইছে হামাস।

সৌদি আরবে যাওয়ার সময় ঊর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা কোনও অগ্রগতি অর্জন করতে পারব কিনা, কখন অগ্রগতি অর্জন করতে পারব তা বলা অসম্ভব। বল এ মুহূর্তে হামাসের কোর্টে।”

গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়টি ছাড়াও ব্লিনকেনের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের আরেক পরিকল্পনায় সমর্থন পাওয়া। সেটি হচ্ছে: গাজা পুনর্গঠন, পরিচালনা এবং সর্বোপরি একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। যে রাষ্ট্রের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।

ঊর্ধ্বতন মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা একটি মানবিক বিরতিতে উপনীত হতে পারলে, এমন একটি অবস্থানে যেতে চাই, যাতে তাড়াতাড়িই অন্য দিকগুলোতে আলোকপাত করতে পারি।”

মধ্যপ্রাচ্যে আর কোথাও যাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে সে চেষ্টাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরানি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর কয়েকদিনের মার্কিন হামলার পর।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অন্তত ৪০ দিনের জন্য লড়াইয়ে বিরতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামাস যোদ্ধারা তাদের হাতে থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিবে। তারপর ইসরায়েলি সেনা এবং তাদের মৃতদেহ হস্তান্তর করবে।

গাজায় চলমান যুদ্ধে এর আগে মাত্র একবার যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। সেটি ছিল মাত্র ১ সপ্তাহের জন্য। এবার ফিলিস্তিনিরা চাইছে যুদ্ধ বন্ধ হোক।

গাজার দেইল আল বালার জাতিসংঘ স্কুল থেকে ম্যাসেজিং অ্যাপে ৪ সন্তানের জনক ইয়েমেন হামাদ বলেন, “আমরা এই যুদ্ধের অবসান চাই। আমরা বাড়ি ফিরে যেতে চাই। এই এলাকাটি ওইসব এলাকারই একটি যেখানে ইসরায়েলের ট্যাংক এখনও অগ্রসর হয়নি। এলাকাটি এ মুহূর্তে হাজার হাজার উদ্বাস্তু মানুষে পূর্ণ হয়ে আছে।”

তিনি বলেন, “আমরা যা করি তা হচ্ছে, ছোট রেডিওতে খবর শুনি এবং ইন্টারনেটে চোখ রাখি। আশা নিয়ে থাকি। আমরা আশা করি ব্লিনকেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বলবেন, যথেষ্ট হয়েছে। আর আমাদের হামাস গোষ্ঠীও জনগণের স্বার্থে সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত নেবে বলেই আশা করি।”