গাজায় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে সমর্থন দিতে জাতিসংঘকে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের

এখনও পর্যন্ত গাজা যুদ্ধের বিষয়ে জাতিসংঘের কোনো পদক্ষেপে ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটি থাকলেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ওয়াশিংটন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Feb 2024, 07:54 AM
Updated : 20 Feb 2024, 07:54 AM

ফিলিস্তিনের গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আর্জি জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলা আলজেরিয়ার এক প্রস্তাবের পাল্টায় অস্থায়ী একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আলজেরিয়ার প্রস্তাবটি নিয়ে মঙ্গলবার ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদে কোনও প্রস্তাব পাস হতে হলে এর ১৫ সদস্যদের মধ্যে অন্তত ৯ সদস্যের প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন বা রাশিয়া যদি না ভোট বা ‘ভিটো’ দেয়, তাহলে পুরো প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে যায়।

আলজেরিয়ার প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘ভিটো’ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। তাদের যুক্তি, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, ইসরায়েল ও কাতার; এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিষদে আলজেরিয়ার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হলে তা এই প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিতে ফেলবে। এই উদ্বেগ থেকেই তারা প্রস্তাবটিতে ভিটো দেবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এখনও পর্যন্ত ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলা যুদ্ধের বিষয়ে জাতিসংঘের কোনো পদক্ষেপে ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটি থাকলেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু নিজেদের এবারের প্রস্তাবে ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছে তারা।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার সময় যে রকম শব্দ ব্যবহার করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবটিতে সে ধরনের ভাষাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

মার্কিন এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “নিরাপত্তা পরিষদ সকল জিম্মির মুক্তির সূত্রের ওপর ভিত্তি করে যত দ্রুত সম্ভব একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য সমর্থন জোরদার করবে এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাবে।” 

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সোমাবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবের ওপর ভোট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘তাড়াহুড়া করার কোনো পরিকল্পনা নেই’ আর তারা আলোচনার জন্য সময় দিতে চান।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে ইসরায়েলের রাফা অভিযানের বিরোধিতা করা হয়েছে। গাজায় বিরাজমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্থল আক্রমণ চালানো হলে তা বেসামরিকদের জন্য আরও ক্ষতিকর ও আরও বাস্তুচ্যুতির কারণ হতে পারে এবং তার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। 

সাড়ে চার মাস ধরে চলা ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ২৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইতোমধ্যে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রায় সবাই ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। এদের অধিকাংশই মিশরের সীমান্ত সংলগ্ন শহর রাফায় আশ্রয় নিয়ে আছে, তাই সেখানে বড় ধরনের কোনো হামলা হলে ‘ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়’ ঘটবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

আরও পড়ুন:

Also Read: গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘে ভোট, 'ভিটো' দেবে যুক্তরাষ্ট্র

Also Read: মার্চে রাফাহ নগরীতে স্থলঅভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিল ইসরায়েল