Published : 26 May 2026, 03:39 PM
ভারতের নয়া দিল্লিতে হওয়া কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও মার্কিন চার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওশেনিয়া মহাদেশের দ্বীপদেশ ফিজিতে একটি বন্দর বানাতে রাজি হয়েছেন।
চার দেশের এই জোটকে ফের চাঙা করতে তারা অতি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ আরও বেশি কিছু বিষয়ে চু্ক্তিতেও উপনীত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর এ নিয়ে ‘চীনবিরোধী এ জোটটির’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক হল। এবারের সংক্ষিপ্ত বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার পেনি ওং, ভারতের এস জয়শঙ্কর, জাপানের তোশিমিৎসু মোতেগি ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন।
এমন এক সময়ে এ বৈঠক হল যখন পশ্চিম এশিয়ায় তিন মাস আগে শুরু হওয়া সংঘাতের সমাপ্তি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির আশপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে।
নয়া দিল্লির এ বৈঠক থেকেই ফিজিতে বন্দর বানানোর এ ঘোষণা এল, যা হতে যাচ্ছে দেশ চারটির প্রথম যৌথ অবকাঠামো প্রকল্প।
“বন্দর অবকাঠামার মতো বিষয়ে অংশীদার হতে যাচ্ছি আমরা, বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোতে অপর্যাপ্ত বন্দর সক্ষমতা মোকাবেলার লক্ষ্যে এই কাজ করতে যাচ্ছি আমরা। আমরা ফিজির সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করছি,” বলেছেন রুবিও।
এই উদ্যোগ হবে ‘উচ্চমানের, টেকসই অবকাঠামো সরবরাহে আমাদের সম্মিলিত সক্ষমতার একটি বাস্তব নিদর্শন’, বলেছেন তিনি।
শুল্ক এবং রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের যে মনকষাকষি চলছিল সে কারণে জোটটি গত বছর শীর্ষ সম্মেলন করতে পারেনি; এর ফলে কোয়াডের কার্যক্রমে ভাটা পড়েছিল বলে মনে হচ্ছিল।
“আমরা প্রকৃত সফলতা ও সত্যিকারের অর্জনের প্রদর্শনী শুরু করে দিয়েছি। এই অংশীদারিত্বের প্রতি আমরা গভীরভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলের অবলম্বন ও ভিত্তি এটি,” বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, চার দেশের এ জোট ইন্দো-প্যাসিফিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্যোগ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ নিয়ে একটি রূপরেখার ব্যাপারেও একমত হয়েছে।
এই খনিজ রূপরেখার মাধ্যমে ঠিক হবে কীভাবে অর্থনৈতিক নীতি ও বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে মজবুত করা যায়। খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুনর্ব্যবহারও এর আওতায় থাকবে, বলেছেন রুবিও।
কূটনৈতিক বিরোধের জের ধরে চীন সম্প্রতি জাপানে বেশকিছু খনিজের রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে, যার প্রভাব পড়বে টোকিওর মহাকাশ, প্রতিরক্ষা ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে। কোয়াডের খনিজ রূপরেখা জাপানকে স্বস্তি দিতে পারে।
আগের কোয়াড বৈঠকগুলোতে নিজেদের জলসীমায় কী কী হচ্ছে সে সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ জোরদারের মাধ্যমে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘উন্মুক্ত ও অবাধ সামুদ্রিক ব্যবস্থা’ বজায় রাখার উদ্যোগগুলোকে সামনে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
ওই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে কোয়াডের দেশগুলো উদ্বিগ্ন। নয়া দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুতের লক্ষ্যে শনিবার চারদিনের সফরে নয়া দিল্লি নামা রুবিও এবারও ইন্দো-প্যাসিফিক ‘উন্মুক্ত ও অবাধ’ রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
বেইজিং কোয়াডকে দেখে স্নায়ু যুদ্ধের সময়ে ওয়াশিংটনের বানানো ‘সামরিক-অর্থনৈতিক জোটের’ মতো। চীনের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ জোটটি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
ভারতের সঙ্গে চীনের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনা চলাকালে মোদী বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।