Published : 17 Jan 2026, 09:55 AM
ট্রাম্প প্রশাসন গাজা যুদ্ধ অবসানে যে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ গঠন করেছে, তাতে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও এ প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিষদে থাকছেন।
বিবিসি লিখেছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত এ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ট্রাম্প নিজেই। এ বোর্ডটি সাময়িকভাবে গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবে এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিষদে আরও রয়েছেন—একটি মূলধনী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রধান মার্ক রোয়ান, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যেক সদস্যের হাতে এমন এক দায়িত্ব থাকবে, যা গাজার ‘স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের’ জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বোর্ড গঠনের কথা জানান। তিনি একে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে গঠিত বোর্ডের চাইতে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেন।
হোয়াইট হাউস জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বোর্ডের আরও সদস্যের নাম ঘোষণা করা হবে।
টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাজ্যকে সম্পৃক্ত করেন। ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক শক্তির (যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও জাতিসংঘ) কোয়ার্টেট-এর মধ্যপ্রাচ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি—ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) ঘোষণার পর এল এ শান্তি পরিষদ।
ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পশ্চিম তীরের কিছু অংশ শাসনকারী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সাবেক উপমন্ত্রী আলি শা’আথ এ নতুন কমিটির প্রধান হবেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বুলগেরীয় রাজনীতিক, জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজায় বোর্ডের মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এনসিএজির সঙ্গে কাজ করবেন।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েন করা হবে, যা ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স, যার লক্ষ্য হবে ‘নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, শান্তি বজায় রাখা এবং স্থায়ী সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা’।
হোয়াইট হাউস এও জানিয়েছে, আলাদাভাবে ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠন করা হচ্ছে, যা শাসন ব্যবস্থায় সহায়তা করবে এবং এতে শান্তি পরিষদের কিছু প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের পাশাপাশি অন্যরা থাকবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি পরিকল্পনা অক্টোবরে কার্যকর হয় এবং এরপর দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করে। তবে গাজার ভবিষ্যৎ এবং সেখানে বসবাসরত ২১ লাখ ফিলিস্তিনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
পরিকল্পনার প্রথম ধাপের আওতায় হামাস ও ইসরায়েল অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, পাশাপাশি জিম্মি–বন্দি বিনিময়, ইসরায়েলি বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহার এবং ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত উইটকফ বলেন, দ্বিতীয় ধাপে গাজা পুনর্গঠন ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রকরণ হবে, যার মধ্যে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর অস্ত্র সমর্পণও অন্তর্ভুক্ত।
এর মধ্যে সবশেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দেওয়া রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, হামাস তাদের সব দায়বদ্ধতা পুরোপুরি পালন করবে। তা করতে ব্যর্থ হলে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
বিবিসি লিখেছে, তবে যুদ্ধবিরতি নাজুক অবস্থায় রয়েছে; উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, একই সময়ে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর হামলায় তাদের তিনজন সেনা নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের দৃষ্টিতে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। জরুরি সরবরাহ যে নির্বিঘ্ন হওয়া জরুরি, তার ওপর জোর দিচ্ছে তারা।
দক্ষিণ ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়। সেখানে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।
এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭১,২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।