Published : 20 Jun 2026, 02:00 PM
সরকার গঠনের চার মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; মালয়েশিয়ার সঙ্গে চীন মিলিয়ে ছয় দিনের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন তিনি।
রোববার মালয়েশিয়া সফর দিয়ে শুরু করা প্রধানমন্ত্রীর এই বিদেশ সফর শেষ হবে ২৬ জুন।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারপ্রধানের সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, শ্রম বাজারকে ‘এক নম্বর এজেন্ডায়’ রেখে কুয়ালামপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনার কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫-১৭টা দলিল স্বাক্ষরের আশা করছেন তারা। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটা অ্যাকশন প্ল্যান এবং আরেকটি প্রটোকল।
আগামী ২১ থেকে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা তুলে ধরে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সফরের প্রথম দিন ২১ জুন প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে।
তিনি বলেন, পরদিন ২২ জুন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব।
“বিশেষত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে,” যোগ করেন তিনি।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে।
চীন সফরের কর্মসূচি
চীন সফরের প্রথম দুইদিন ২৩ থেকে ২৪ জুন দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-ডব্লিউইএফের সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সম্মেলন ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত।
ডব্লিউইএফের সম্মেলনে সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, উদ্ভাবক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্ভাবন, ভবিষ্যতে পৃথিবীর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা এবং মতবিনিময় করেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন, সন্ধ্যায় পৌঁছাবেন।
পরদিন ২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সূচি থাকার কথা বলেন আসাদ আলম সিয়াম।
একইসঙ্গে, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারপ্রধানের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও বলেন সচিব।
তিনি বলেন, সরকারপ্রধান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে তিনি যোগ দেবেন।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ২৪ জুন সকালে ১৭তম বার্ষিক ‘সামার দাভোসের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথ ধরবেন তিনি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সফরকালে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ডায়াওইউতাই গেস্ট হাউজে থাকবেন তারেক রহমান। পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের মিনিস্টার অফ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অব সিপিসি সেক্টর কমিটি, পানি সম্পদ মন্ত্রী, সিটকা চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংক চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন এবং চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।
২৫ জুন বিকালে চীনের গ্রেট হলে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব।
“যেখানে দুইদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল বিষয় এবং ভবিষ্যতে এসবকে আরো কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে,” বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেবেন।
পরদিন ২৬ জুন প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাউ লি’র সঙ্গে।
ওইদিন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার তথ্য দিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
“বৈঠক শেষে ওইদিন তিনি বিকালে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন।”
তার আগে সে দিন তিয়ানআনমেন স্কয়ারে সেখানকার যোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক।
এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফরে দুইদেশের ‘কমপ্রিহেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপকে নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাবে বলে আশা করছে ঢাকা।
“এবং দুদেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে বলে আমরা আশা করি,” যোগ করেন তিনি।
মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মোট ২৭ জন।
চীন সফরের প্রতিনিধিদলে ২৮ জন থাকার তথ্য দিলেও সফরসঙ্গী অন্যদের নাম বলেননি পররাষ্ট্র সচিব।