Published : 08 Jul 2026, 12:50 PM
ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ও দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বুধবার তেলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে আর পশ্চিম এশিয়ার তেল সরবরাহ ফের বিঘ্নিত হতে পারে, এমন আশঙ্কার মধ্যে এ বৃদ্ধি ঘটেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি মূল্য ০৪০০ জিএমটিতে ১ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৭৬ দশমিক ০৮ ডলার হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৮২ ডলার বা ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৪২ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়ায়।
হরমুজ প্রণালিতে তিন জাহাজে ইরান হামলা চালানোর পর মঙ্গলবার দেশটির ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞায় দেওয়া সাময়িক ছাড় প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়, এর পরপরই উভয় বেঞ্চমার্ক ৩ শতাংশ বেড়ে যায়।
নিষেধাজ্ঞায় ওই ছাড়ের ফলে ইরান সীমিত পরিসরে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ পেয়েছিল। এটি গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অংশ ছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিন বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির উপকূলীয় লক্ষ্যস্থলগুলো হামলা চালানো হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পরপর ইরান বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস সরবরাহের জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়। এতে পারস্য উপসাগরে তেল-গ্যাসবাহী বহু জাহাজ আটকা পড়ে আর উপকূলীয় দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ মজুদ জমে যায়।
এপ্রিলের প্রথমদিক থেকে চলা যুদ্ধবিরতি মধ্যে ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো ও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়। এতে পশ্চিম এশিয়ার জমে থাকা ব্যাপক তেল-গ্যাসের সরবরাহ বাজারে আসবে, এমন প্রত্যাশা তৈরি হয় আর এর ফলে জ্বালানির দাম অনেকটা হ্রাস পায়।
কিন্তু নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ার জ্বালানির মূল্য ফের উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ার কথা জানাল কুয়েত