Published : 08 Jul 2026, 01:31 PM
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগে করা একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান গত ১ জুলাই রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন।
সকালে শুনানিতে রাশেদ খান মেননকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২২ অগাস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রথমে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এ রাজনীতিক কারাগারে রয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমাতে একাধিক হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী একটি মামলার বিচার চলছে।
‘অনিয়ম ও প্রতারণার’ মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এই মামলাটি করে দুদক।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি।
বিজ্ঞাপনে চাহিত এনটিআরসিএ সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়।
মামলার আসমিরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ছাড়াও স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্স কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন ও জহিরুল ইসলাম খান।
এছাড়া আরও আছেন শিক্ষক শ্যামলী হোসেন, মাহমুদা সুলতানা, আয়শা সিদ্দিকা, নাসরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, তুহিন বিশ্বাস, মো. বজলুর রহমান, মো. রাসেল, মো. হারুন-অর-রশিদ খান, মো. মোশারফ হোসেন, উৎপল বিশ্বাস, এ কে এম মাসুদ রানা ও মো. আরিফুল ইসলাম।