Published : 13 May 2026, 08:34 PM
ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ ওরফে থালাপতি বিজয় নিজের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সেই জ্যোতিষীকে সমালোচনার মুখে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কার্যালয়ে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’(ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বুধবার সকালে আস্থা ভোটে জয়ের পরপরই এই নিয়োগ নিয়ে ‘টিভিকে’ দলের সমালোচক, প্রতিদ্বন্দ্বী এমনকি মিত্র দল বিদুথলাই চিরুথাইগাল কাচি (ভিসিকে)-র মধ্যেও তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
নিয়োগ বাতিল করার আগে ‘টিভিকে’ দলের নেতা সিটি নির্মল কুমার সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, জ্যেতিষী ভেট্রিভেলের পেশা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। তার দাবি ছিল, ভেট্রিভেল মূলত মিডিয়া মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভেট্রিভেলই বিজয়ের নির্বাচনে জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং তার পরামর্শেই এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ নিজের শপথ গ্রহণের সময় পরিবর্তন করেছিলেন।
আস্থা ভোটে জয়ের পর টিভিকে নেতা নির্মল কুমার বলেছিলেন, “তিনি আমাদের মিডিয়া ব্যক্তি, আমাদের মিডিয়া মুখপাত্র। তিনি যে কোনো পেশার হতে পারেন, কিন্তু তাকে মিডিয়া হ্যান্ডলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
দেশিয়া মুরপোক্কু দ্রাবিড় কাজাগাম (ডিএমডিকে)-এর প্রধান প্রেমলতা বিজয়কান্তও জ্যেতিষী নিয়োগের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বিজয়ের মুখের ওপর বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি হিসেবে একজন জ্যোতিষীর নিয়োগের আমি তীব্র নিন্দা জানাই।
“যুবসমাজের কাছে আপনি কী বার্তা দিতে চান? যদি তিনি আপনার ব্যক্তিগত জ্যোতিষী হন, তবে তাকে ব্যক্তিগতভাবেই রাখুন।”
বিজয়ের মিত্রদের মধ্যে কংগ্রেসও এই সিদ্ধান্তে নাখোশ ছিল, যাদের পাঁচটি আসন ‘টিভিকে’ সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কংগ্রেস এমপি শশীকান্ত সেনথিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “মাথা কাজ করছে না। একজন জ্যোতিষীর কেন ওএসডি পদ লাগবে? কেউ কি ব্যাখ্যা করতে পারেন?”
এর আগে ‘ভিসিকে’-র সাধারণ সম্পাদক ডি রবিকুমার বলেছিলেন, “একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারে এটি অগ্রহণযোগ্য। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা সরকারের দায়িত্ব।”
তিনি অবিলম্বে ভেট্রিভেলকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন। বামপন্থিরাও বিজয়ের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে।
তবে আশ্চর্যজনকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যারা এই নির্বাচনে মাত্র একটি আসন জিতেছে, তারা বিজয়ের পক্ষ নিয়েছে।
যদিও বিজয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গেরুয়া শিবিরের প্রতি তার কোনও অনুরাগ নেই এবং তিনি বিজেপি-কে তার ‘আদর্শিক শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জ্যোতিষী এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দক্ষিণ ভারতে নতুন কিছু নয়। ভেট্রিভেলের হাই-প্রোফাইল মক্কেলদের তালিকায় তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতাও ছিলেন।
বলা হয়ে থাকে, এআইএডিএমকে নেত্রীর শাসনামলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এই জ্যোতিষীর সঙ্গে পরামর্শ করেই নেওয়া হত।
তবে জয়ললিতা তার অসম বা হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় জেল খাটবেন না- ভেট্রিভেলের এমন একটি ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল।