Published : 16 Oct 2025, 10:25 PM
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের এক সপ্তাহ না পেরোতেই একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু করেছে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস।
বৃহস্পতিবার এক ঊর্ধ্বতন হামাস কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেছেন, গত শুক্রবার থেকে ইসরায়েল অন্তত ২৪ জনকে গুলি করে মেরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এমন ঘটনার তালিকা মধ্যস্থাকারীদেরকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “দখলদ্বার এই রাষ্ট্র (ইসরায়েল) যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের মধ্য দিয়ে এ সংক্রান্ত চুক্তি ক্ষুন্ন করতে দিন-রাত তৎপর রয়েছে।”
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগের কোনও জবাব দেয়নি। ইসরায়েল এর আগে বলেছিল, কিছু ফিলিস্তিনি যুদ্ধবিরতির সময়ে ইসরায়েলের নির্ধারিত এলাকার দিকে না আগানোর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে। ফলে ইসরায়েল হুমকি ঠেকাতে তাদের দিকে গুলি চালিয়েছে।
ইসরায়েল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে হামাসকে নিরস্ত্র হওয়া এবং গাজার ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু হামাস এখনও তা করেনি।
উল্টো হামাস গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ছেড়ে যাওয়া শহর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তার কথা বলে দমনাভিযান শুরু করেছে। তারা প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে এবং স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ ইসরায়েলের।
ইসরায়েলের বৃহস্পতিবার বলেছে, তারা ফিলিস্তিনিদের যাতায়তের জন্য মিশরের সঙ্গে গাজার সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যে এই ক্রসিংক কখন খোলা হবে তার কোনও দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়নি।
তার ওপর হামাসের জিম্মিদের মৃতদেহ ফেরত দেওয়া নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে বিবাদের কারণে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে এবং সব বাধ্যবাধকতা মেনে চলছে।
তিনি হামাসের কাছ থেকে ১৯ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত পাওয়ার দাবি জানান। যেগুলো হামাস এখনও হস্তান্তর করেনি। হামাস ১০ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে, যার মধ্যে একটি জিম্মির নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
হামাস বলছে. তারা যে কয়জন জিম্মির দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে সে ক’টিই ফেরত দিয়েছে।