Published : 15 Jun 2026, 08:11 PM
ফরিদপুর শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিলে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়েছেন। এতে মিছিলকারীরা ব্যানার ও মশাল ফেলে পালিয়ে যান।
রোববার রাতে শহরের টেপাখোলা মহল্লার মুজিব সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
ভিডিওটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. ইশতিয়াক তার ফেইসবুক আইডিতে আপলোড করেন। তিনি এতে লেখেন, “ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে ফরিদপুর শহরে আজ রাতে মশাল মিছিল।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ২০ থেকে ২৫ জন মশাল হাতে স্লোগান দিতে দিতে টেপাখোলা হাট এলাকা থেকে মিছিল শুরু করেন। তারা সরকারি ইয়াছিন কলেজের সামনে দিয়ে মুজিব সড়ক হয়ে কোহিনূর লাইব্রেরির সামনে এবং লেকপাড় মোড় এলাকায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের সামনে যান।
ওই সময় লেকপাড় মোড়ে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। এ সময় মিছিলকারীরা ব্যানার ও মশাল ফেলে টেপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (বৈরাগী স্কুল) দিকে পালিয়ে যান।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ব্যানার ও কয়েকটি মশাল জব্দ করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার শিথিল বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে মশাল মিছিল করতে দেখে আমরা বাধা দেই। আমাদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকও ছিল। বাধার মুখে তারা ব্যানার ও মশাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে আমরা ফেলে যাওয়া ব্যানার ও ১১টি মশাল উদ্ধার করে থানায় জমা দেই।”
তিনি বলেন, টেপাখোলা এলাকার ‘মাদক ব্যবসায়ী হাতকাটা’ আখতার ও বিন্দুপাড়া এলাকার কিছু কিশোর আওয়ামী লীগের নামে এ মশাল মিছিলে অংশ নেয়।
ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, “মশাল মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে একটি ব্যানার ও কয়েকটি মশাল জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে।”
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াককে মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।