Published : 15 Jun 2026, 08:11 PM
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস (যুবরাজ্ঞী) মেটে-ম্যারিটের ছেলে মারিয়াস বোর্গ হইবি ধর্ষণের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার অসলো জেলা আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে। ধর্ষণের আরও দুটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা আরও বেশ কয়েকটি অপরাধের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
২৯ বছর বয়সী মারিয়াস বোর্গ হইবি স্বাস্থ্যগত কারণে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে রায় শুনেছেন।
কৌঁসুলিরা হইবির জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, হইবির আইনজীবীরা আরও কম ১৮ মাসের সাজা চেয়েছিলেন। তারা জানিয়েছেন, হইবি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান।
মারিয়াস বোর্গ হইবি রাজপরিবারে বেড়ে উঠলেও তার কোনো রাজকীয় উপাধি বা রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারের অধিকার নেই। তবে তার বিচার নরওয়ের রাজপরিবারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
হইবির বয়স যখন চার বছর, তখন তার মা মেটে-ম্যারিট নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স (যুবরাজ) হাকনকে বিয়ে করেছিলেন। এরপর থেকে হাকনের সৎ ছেলে হিসাবে রাজপরিবারে বড় হয়েছেন হইবি।
যুবরাজ্ঞী মেটে-ম্যারিট ফুসফুসের রোগে ভুগছেন এবং সম্প্রতি তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। অসুস্থ মায়ের পাশে থাকার জন্য হইবির আইনজীবীরা কারাগার থেকে তার মুক্তি দাবি করে এসেছেন বারবার।
সোমবার রায় ঘোষণার পর হইবির আইনজীবী ফের তার মুক্তি চান আদালতের কাছে। অসলো আদালত অবশ্য গত সপ্তাহে প্রাথমিকভাবে হইবির মুক্তি মঞ্জুর করেছিল। তবে আপিল কোর্টে সে সিদ্ধন্ত উল্টে যায়।
সোমবার অসলো আদালতের বিচারকদের একজন জন স্ভেরদ্রুপ রায়ের সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন এবং পরে ১২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের ব্যাখ্যা দেন।
হইবি ধর্ষণের চারটি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। তবে আদালত হইবিকে দুই নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনা ২০১৮ সালে ক্রাউন প্রিন্সের স্কাউগুম এস্টেটে এবং অপরটি ২০২৪ সালে অসলোতে ঘটে।
এছাড়াও হইবি তার সাবেক প্রেমিকা, নরওয়েজিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার নোরা হাকল্যান্ডকে অপব্যবহারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং আরেক সাবেক সঙ্গীকে গুরুতর শারীরিক আঘাত করার অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ওই নারীর বাসা থেকেই ২০২৪ সালের অগাস্টে হইবিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অসলোর একটি হোটেলে পরিচয় হওয়া এক নারী এবং ২০২৩ সালে লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জে অবকাশ যাপনকালে পরিচয় হওয়া আরেক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে হইবিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।