Published : 16 Jun 2026, 03:19 PM
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে একটি ‘এল নিনো’ আবহাওয়ার ধরন তৈরি হয়েছে এবং এটি তীব্র রূপ নিয়ে গত সাত দশকের মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো।
মঙ্গলবার ব্যুরো অব মেটিওরোলজি জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইতিমধ্যে এল নিনোর নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করেছে এবং বায়ুমণ্ডলীয় সূচকগুলোও এই আবহাওয়া বয়ে আনা চরম পরিস্থিতিগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে।
এক বিবৃতিতে আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, “মধ্য ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণায়নের ব্যাপ্তির ওপর ভিত্তি করে পূর্বাভাসগুলো একটি শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আবহাওয়ার প্রায় অর্ধেক মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই পরিস্থিতি ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পর্যায়গুলোর অন্যতম হতে পারে।”
ব্যুরো জানায়, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পর্যায়ক্রমিক উষ্ণায়ন হলো এল নিনো, যা শীত ও বসন্তকালে কম বৃষ্টিপাতের সাথে সম্পর্কিত; বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে এবং এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পায়।
এই আবহাওয়া পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর, কারণ এটি দেশটির কৃষি উৎপাদনকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গম, চিনি ও গরুর মাংস রপ্তানিকারী দেশ।
এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অনুভূত সর্বশেষ এল নিনোর কারণে দেশটির ইতিহাসে রেকর্ডভুক্ত শুষ্কতম তিন মাস পার হয়েছিল।
২০১৫ এবং ২০১৬ সালে অন্যতম শক্তিশালী এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা দেশটিতে ব্যাপক খরা ডেকে এনেছিল এবং শস্য ও তৈলবীজের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবারের এল নিনোর প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলবে।