Published : 12 Jun 2026, 12:40 AM
ইউক্রেইনের সেনা সদস্যদের হত্যার জন্য সেদেশেরই কিশোরী ও তরুণীদের রাশিয়া নিয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেইনের পুলিশ প্রধান ইভান ভিহিভস্কি।
সম্প্রতি রাশিয়ার এক এজেন্টের নির্দেশে একজন সেনাসদস্যকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই দাবি করলেন ভিহিভস্কি।
বুধবার ইউক্রেইনের সংবাদমাধ্যম ‘সেনজর ডটনেট’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পুলিশ প্রধান ভিহিভস্কি জানান, চলতি বছর জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক বা ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যার ছয়টি ঘটনা ঘটেছে। সেগুলোর মধ্যে একটি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা আক্রমণকারী রাষ্ট্রের (রাশিয়া) বিশেষ সংস্থাগুলোর পরিকল্পনা ও অর্থায়নে এবং ইউক্রেইনীয় নাগরিকদের মাধ্যমে পরিচালিত সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কথা বলছি।”
ভিহিভস্কি জানান, রুশ নিয়োগকারীরা বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণীদের খুঁজে বের করে সহজে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখায়। এরপর তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় ডেটিং ওয়েবসাইটগুলোতে ইউক্রেইনীয় সেনাসদস্যদের খুঁজে বের করার।
সেনাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার অর্থও দেয় রুশ গোয়েন্দারা। এরপর তাদের পানীয়তে মেশানোর জন্য উচ্চ মাত্রায় প্রাণঘাতী সিন্থেটিক ওপিওড ‘মেথাডোন’ (এক ধরনের ব্যথানাশক) সংগ্রহের স্থান বলে দেওয়া হত।
ইউক্রেইনের নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালীন দেশদ্রোহিতা, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসবাদ বা নাশকতার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১,১০০ জনেরও বেশি ইউক্রেইনীয় নাগরিক অভিযুক্ত হয়েছেন।
তারই অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জাইতোমির অঞ্চলে এক সেনাসদস্যকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে আটক করে পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, ওই কিশোরী টেলিগ্রামে এক রুশ গোয়েন্দা এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করছিল এবং স্ফটিক আকারের মেথাডোন জাতীয় পদার্থের একটি পার্সেল গ্রহণ করেছিল।
তবে এই বিষয়ে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি-র তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।