Published : 11 Jun 2026, 08:15 PM
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক নতুন পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘আজ রাতেই ইরানে খুব কঠোর আঘাত’ হানবে। একইসঙ্গে ইরানের তেল ও গ্যাসের বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং খার্ক দ্বীপ দখলেরও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র এ রাতেই (বৃহস্পতিবার) ইরানে খুব কঠোর আঘাত হানবে (যাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সব ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের বেশিরভাগ আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও ধ্বংস হয়ে গেছে!)।”
তিনি আরও লেখেন, “এক পর্যায়ে আমরা শিগগিরই খার্ক দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামো অঞ্চলগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেব। এরপর তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করব, ঠিক যেভাবে আমরা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে করেছি। এটি ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের দেশের জন্যই চমৎকারভাবে কাজ করছে।”
ইরানে চলমান সংঘাতের শুরু থেকেই ট্রাম্প বারবার দেশটির উপকূলবর্তী ছোট দ্বীপ খার্ক দ্বীপ দখলের হুমকি দিয়ে আসছেন। এই দ্বীপটিতে ইরানের একটি প্রধান তেল টার্মিনাল রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এমন হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তাছাড়া, খার্ক দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি হওয়ায় এই দ্বীপ দখল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের হুমকির পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এরই মধ্যে প্রায় ২ ডলার বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৯৪.১৬ ডলারে উন্নীত হয়, যদিও পরে তা সামান্য কমেছে।
ট্রাম্প ইরানকে নতুন এই হুমকি দেওয়ার আগে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালির সীমান্তবর্তী ইরানের সিরিক শহরের আশেপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর।
তবে বিবিসি এই প্রতিবেদনের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং কোনো হামলা চালানো হয়েছে কি না সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।