Published : 11 Jun 2026, 09:59 AM
যুক্তরাষ্ট্র রাতভর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যস্থলে নতুন করে আঘাত হেনেছে বলে বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। এর জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।
কোনো শান্তি চুক্তি না হলে আরও হামলা চালানো হবে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এমন হুমকি দেওয়ার পর এসব ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে, তেহরানের স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আঘাত হানার পর অভিযান সম্পূর্ণ হয়েছে। এক্স এ এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ‘সামরিক বাহিনীর নজরদারি সক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ইরানজুড়ে থাকা এয়ার ডিফেন্স স্থাপনাগুলো’।
সেন্টকম বলেছে, “ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এসব আঘাত হানা হয়েছে।”
রয়টার্স লিখেছে, এসব আক্রমণ বাড়তে থাকা পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধির সর্বশেষ ঘটনা আর এগুলো ফের পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ উস্কে ওঠার হুমকি তৈরি করেছে, যা এপ্রিলের প্রথমদিকে দুই পক্ষের সম্মতিতে একটা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে থেমে ছিল।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি সামরিক লক্ষ্যস্থলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ হামলার সতর্কতা জানিয়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, তেল ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা যে কোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইতোমধ্যে ওই প্রণালির পার হওয়ার চেষ্টা করা দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
সেন্টকম ইরান ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি খোলাই আছে, ইরান হুমকি সত্ত্বেও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো জলপথটি দিয়ে চলাচল করছে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছেন, একটি অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের অনুমতি ছাড়াই জাহাজগুলো প্রণালিটি পার হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে বলেছেন, এই হামলা কিছুক্ষণের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে কিন্তু ইরানের নেতারা অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চু্ক্তিতে স্বাক্ষর না করলে তিনি তাদের ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেবেন’। ইংস্ট এক্স এ এমনটিই লিখেছেন।
ইরানি বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সিরিক, কারগান, বন্দর আব্বাস, মিনাব, ভারামিন ও কারাজসহ বেশি কয়েকটি শহর থেকে বিস্ফোরণের খবর এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাদের এই সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধ শেষ করতে ইরানকে একটি চুক্তি করতে বাধ্য করার প্রচেষ্টা বলে উপস্থাপন করেছেন।
আরও পড়ুন:
ইরানি বাহিনীর গুলিতে হেলিকপ্টার হারানোর পর পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্
মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে আক্রমণ ইরানের