Published : 10 Jun 2026, 01:19 PM
হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দর ও দ্বীপগুলোতে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তারা আঘাত হেনেছে বলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরে এবং কুয়েতে মার্কিন বিমান ঘাঁটি আলি আল সালেমে ড্রোন যোগে আক্রমণ চালিয়েছে। এর পাশাপাশি জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের আজরাক বিমান ঘাঁটিতে দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি লক্ষ্যে আক্রমণ চালিয়েছে আর এগুলোর মধ্যে জর্ডানে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারসহ চারটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে দিয়েছে।
তারা ইরানের জাম শহরের আকাশ থেকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করারও দাবি করেছে।
সর্বশেষ উত্তেজনা বৃদ্ধির এই ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি অ্যাপাচি অ্যাটকা হেলিকপ্টার ইরান গুলি করে ভূপাতিত করেছে অভিযোগ করার পর দেশটির কেশম দ্বীপ ও সংলগ্ন বন্দরগুলোতে হামলা চালানোর জেরে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় সিরিকের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর সেখানে দুটি পানির ট্যাংকি ধ্বংস হয়েছে।
ইরানি এই বাহিনীটি সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন বাহিনীর যে কোনো সামরিক পদক্ষেপের ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’ জবাব দেওয়ার জন্য তাদের বাহিনীগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় আছে আর উত্তেজনার আরও বৃদ্ধি ঘটলে তার পরিণতির জন্য ওয়াশিংটনকে পুরো দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে।
আইআরজিসির এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি।
বাহরাইন, কুয়েতে সাইরেন
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আজরাক বিমান ঘাঁটির দিকে ছোড়া পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে, এর ফলে ‘ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর শার্পনেল পড়লেও কেউ হতাহত বা কোনো বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি’।
ইরানের হামলার কারণে বাহরাইন ও কুয়েতে আকাশ হামলার সতর্কতা জানিয়ে সাইরেন বাজানো হয়।
আইআরজিসির বিবৃতি আসার আগে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা কুয়েতের আকাশসীমায় ‘শত্রুভাবাপন্ন এরিয়াল লক্ষ্যবস্তুগুলোকে’ বাধা দিচ্ছে। তবে আর বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সর্বশেষ এসব হামলা, পাল্টা হামলা সত্ত্বেও কোনো পক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফেরত যেতে ইচ্ছুক না বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ইরানি বাহিনীর গুলিতে হেলিকপ্টার হারানোর পর পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের