Published : 09 Jun 2026, 10:07 AM
কিউবার উত্তরপশ্চিম উপকূলে প্রায় ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে, এতে কিউবা, মেক্সিকো ও ফ্লোরিডার কিছু অংশ কেঁপে উঠেছে; যদিও এই অঞ্চলগুলো সাধারণত ভূমিকম্পপ্রবণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সোমবারের এ ভূমিকম্পটি ৬ দশমিক ১ মাত্রার ছিল এবং এর উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের ২৬ কিলোমিটার গভীরে আর উপকেন্দ্রটি ছিল কিউবার মান্তুয়া শহর থেকে ১০৪ কিলোমিটার পশ্চিম উত্তরপশ্চিমে।
কিউবার রাজধানী হাভানা থেকে মান্তুয়ার গাড়ি দূরত্ব প্রায় দুই থেকে চার ঘণ্টা, জানিয়েছে রয়টার্স।
ইউএসজিএস এর ভূমিকম্পবিদ পল আর্ল জানিয়েছেন, ক্যারিবিয়ানের এ অঞ্চলে এ ধরনের ভূমিকম্প একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। কারণ ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তি সাধারণত ভূতাত্ত্বিক প্লেটের সীমান অঞ্চলে হয়, কিন্তু এ ভূমিকম্পটি হয়েছে প্লেটের ভেতর দিকে যেখানে এটি কোনো নিয়মিত ঘটনা নয়।
আর্ল জানান, সোমবারের ভূমিকম্পটি যেখানে হয়েছে এর ৩২২ কিলোমিটারের মধ্যে ১৮৮০ সালের পর থেকে এতো শক্তিশালী ভূমিকম্প আর হয়নি। ১৪৬ বছর আগে ৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল কিউবার সান ক্রিস্তোবালে।
সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কর্তৃপক্ষগুলো এখনও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর জানায়নি, কিন্তু এ ভূমিকম্পের কারণে কিউবায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ কিউবার দশকের পর দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে আছে।
কিউবার পশ্চিমাঞ্চলীয় পিনার দেল রিও-র নিজ বাড়িতে বসে জুসমিলা এরনান্দেস (৪৪) বলেন, “এটি খুব প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছে। এর আগে কখনোই আমি এরকম কোনো কিছু অনুভব করিনি।
“লোকজন দৌঁড়ে বাইরে চলে যায়, সবাই ভয় পেয়েছিল। এমনকি আমি এটি বলে বোঝাতে পারবো না। এটি এমন ছিল যেন আর কোনোদিন এখানে কোনো ভূমিকম্প হয়নি।”
ইউএসজিএস জানিয়েছে, কম্পন ফ্লোরিডায়ও অনুভূত হয়েছে। পাশাপাশি মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কানকুন, প্লায়া দেল কারমেন ও তুলুমেও অনুভূত হয়েছে।
এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্পম্পের অভিজ্ঞতা না থাকা কানকুন শহরের কেন্দ্রস্থলের বাসিন্দারা ও কর্মীরা আতঙ্কে ভবনগুলো ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
মেক্সিকোর ইউকাতান ও কিন্তানা রো রাজ্যের দুই গভর্নর তাদের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে জানিয়েছেন, তাদের নিজ নিজ রাজ্যে জরুরি প্রটোকল সক্রিয় করা হয়েছিল। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির পর কোনো সুনামিক সতর্কতা জারি করা হয়নি বা সুনামির কোনো লক্ষণও দেখা যায়নি।