Published : 20 May 2026, 12:20 AM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে নাম লেখানো যুগলদের জন্য রাজধানী তেহরানে প্রকাশ্যে গণবিয়ের আয়োজন করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ।
ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে তেহরানের প্রধান কয়েকটি চত্বরে এই বিয়েতে অংশ নেন শত শত বর–কনে। এর মধ্যে তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারেই বিয়ে হয় ১০০’রও বেশি যুগলের।
বিয়ের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকির মুখে ইরানিদের মনোবল বাড়াতে এই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়।
গণবিয়ের দৃশ্যে দেখা গেছে, নবদম্পতিরা সামরিক জিপে চড়ে ইমাম হোসেন স্কয়ারে পৌঁছান। জিপগুলোতে মেশিনগান বসানো ছিল। চত্বরে একটি বড় মঞ্চে একজন ধর্মীয় নেতার উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
মঞ্চটি বেলুন এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির বিশাল ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছিল। ইরানে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই মুজতবার বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছিলেন। এরপরই তার স্থলাভিষিক্ত হন ছেলে মুজতবা। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির চলার মধ্য দিয়ে থমকে আছে। তার মধ্যেই ট্রাম্পের অনবরত হুমকি-ধামকির মধ্যে হাজার হাজার ইরানি এখন অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেছেন। তাদের স্লোগান, “আমার দেশ এবং মানুষের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, বিয়েতে অংশ নেওয়া যুগলরা প্রত্যেকেই সরকারের ‘আত্মোৎসর্গ’ কর্মসূচিতে নাম লিখিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় যুগলরা যুদ্ধের প্রয়োজনে নিজেদের জীবন বাজি রাখার অঙ্গীকার করেছে। যেমন, প্রয়োজনে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বাইরে মানবঢাল তৈরি করা।
ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাসহ লাখ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে এই তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়েছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান কর্তৃপক্ষ এমন কর্মসূচি চালু করছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সাদা রঙের ইসলামি বিয়ের পোশাক পরা এক তরুণী তার বরের পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, “নিশ্চিতভাবে দেশ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তরুণ-তরুণীদেরও বিয়ে করার অধিকার আছে।’
সূত্র: সিবিএস নিউজ