Published : 15 Jun 2026, 04:01 PM
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িতরা শনাক্ত হলেও তাদের গ্রেপ্তারে ‘একটু সময় লাগতে পারে’ বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের দুদিন পেরোলেও সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত যে ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের নাম-পরিচয় পরে প্রকাশ করা হবে।
শনিবার দুপুরে পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫) হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার ময়নাতদন্ত শেষে মাসুদুলকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
জানতে চাইলে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সোমবার দুপুরে বলেন, “এখনো পর্যন্ত মামলা করতে উনার পরিবারের কেউ থানায় আসেননি। আসলেই আমরা মামলা নেব।
“ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।”
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “জড়িতরা গ্রেপ্তার হলে আমরা নিশ্চিত করতে পারব। বিষয়টি পুরোপুরি উদঘাটন হলে তখন জানাব।”
এদিন বেলা ১২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুল হত্যার বিষয়ে এসপি মাসুদ আলমের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান।
জবাবে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “রাউজানের ঘটনার বিষয়ে ফেইসবুক বা সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারাও দেখেছেন। ঘটনার পরপরই আমরা এগুলো (ভিডিও) সবই কালেক্ট করেছি। এগুলো আমাদের কাছে সব আছে।
“যারা এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত, তাদের সবাইকে আমরা শনাক্ত করেছি। তারা সবাই ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে ধরাও পড়েছে। পরে আবার বারবার জামিন হয়ে এসেছে।”
তিনি বলেন, “এখন একটাই বাকি, সেটা হচ্ছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা। আমরা এখনো তাদের গ্রেপ্তার করতে পারি নাই। আমরা শতভাগ আন্তরিকতার সাথে এবং যত চেষ্টা করা লাগে আমরা করব।

“তবে এটা একটু সময় লাগতে পারে। কারণ সেখানকার প্রাকৃতিক যে বৈশিষ্ট্য এবং এটার যে সুবিধা, তারা পেয়ে থাকে। এই সুবিধা বারবার তারা গ্রহণ করে।”
শনিবার হত্যাকাণ্ডের পরই অভিযান চালানোর কথা জানিয়ে জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা মাসুদ আলম বলেন, “ওইদিনই আমরা পাহাড়ের ভেতরে চলে গিয়েছিলাম। অনেক জায়গা আমরা ঘুরে আসছি। আসলে স্পেসিফিক তথ্য ছাড়া এটা করা একেবারে ডিফিকাল্ট।
“তারপরে আল্লাহর রহমত লাগবে। আমাদের কপালও ভালো লাগবে। আপনাদের সবার সহযোগিতা লাগবে। যত বড়ই সন্ত্রাসী হোক, আমাদের কোনো ছাড় নাই।
“আমরা একটা মেসেজ দিতে চাই, একজন অপরাধ করবে আর করে সে পার পেয়ে যাবে—এটা ধারণা পোষণ করার কোনো সুযোগ নাই। এবং এই সুযোগ দেবও না আমরা।”
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে তিনি বলেন, “যারা আছে, সবাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং কাছাকাছি এলাকারই; রাউজানকেন্দ্রিক। এদের এর আগে বহুবার গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তাদের নামে হত্যা মামলাসহ অনেক মামলা আছে।
“ধারণা করছি, কোনো না কোন স্বার্থের কারণে তারা ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। আগে ধরি. তারপর হয়ত এটার মোটিভটা সম্পর্কে জানতে পারব।”
এসপি মাসুদ আলম বলেন, “রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, ভূজপুর ও হাটহাজারী এলাকার যে ভৌগোলিক অবস্থান, সেটা সন্ত্রাসীদের জন্য প্রাকৃতিকভাবে সুবিধাজনক। সেটা তারা ব্যবহার করছে। সেটা তারা বেশিদিন ব্যবহার করতে পারবে না। এজন্য যত প্রতিবন্ধকতা লাগে তা আমরা তৈরি করব।”
শনিবার খুন হওয়া মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।
সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল চৌমুহনী বাজারে আসে। সেসময় মাসুদুল হক চৌধুরী বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তখন অস্ত্রধারীরা মাসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মাসুদুল মাটিতে পড়ে যাবার পরেও অস্ত্রধারীদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে।
এরপর অস্ত্রধারীরা ফাঁকা গুলি করতে করতে আবার অটোরিকশায় উঠে চলে যান। এসময় তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনে হাতে লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে।
হত্যাকাণ্ডে পিস্তল ও দেশি অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছিলেন রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।
নিহত মাসুদুল রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরীর ছোট ভাই।
শনিবার দুপুরে ওষুধ কিনতে মাসুদুল চৌমুহনী বাজারে যান বলে পুলিশ জানিয়েছিল। গেল দুই বছরে রাউজান উপজেলায় বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
আরও পড়ুন