Published : 21 Jun 2026, 11:59 AM
চট্টগ্রামে নয় আগের একটি হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার সকালে চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেয়।
দণ্ডিত মো. ইসমাইল হোসেন সুজনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রাম; তিনি ওই গ্রামের নাছের আহম্মদের ছেলে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি সুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত
আসামি মো. ইসমাইল হোসেন সুজন পলাতক বলে জানিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ নগরীর পাহাড়তলি থানার অলংকার শপিং কমপ্লেক্সে ২০ বছর বয়সী আবু নাছের খুন হন। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ছলিমপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।
আবু নাছের অলংকার শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় মমতাজ টেলিকম নামের একটি দোকান চালাতেন।
ওই বিপণি কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় ফেরদৌস ওয়াহিদ নামের আরেক এক ব্যক্তি এস এম টেলিকম নামের আরেকটি দোকান পরিচালনা করতেন। সেই দোকানটির একাংশ মাসিক চার হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে মোবাইল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন ইসমাইল হোসেন সুজন।
২০১৭ সালের ৬ মার্চ ইসমাইল হোসেন সুজন এস এম টেলিকমের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদকে আগে কিছু না জানিয়ে ওই বিপণি কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলা জননী টেলিকম নামের অন্য একটি দোকানের একাংশ ভাড়া নিয়ে সেখানে চলে যায়।
চার দিন পর ওই বছরের ১০ মার্চ এস এম টেলিকমের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ সে মাসের ভাড়া দাবি করলে ইসমাইল হোসেন সুজন তাকে এক হাজার টাকা দেন এবং বাকি টাকা পরে দিবেন বলে জানান।
পরে ২৪ মার্চ রাতে ফেরদৌস ওয়াহিদ সঙ্গে আবু নাছেরকে নিয়ে ইসমাইল হোসেন সুজনের কাছে বাকি টাকা চাইতে যায়। তখন জননী টেলিকমের ভিতর ফেরদৌস ওয়াহিদের সাথে সুজনের বাক বিতণ্ডা হয়।
“এক পর্যায়ে তাদের দুজনের ঝগড়া থামাতে এগিয়ে গেলে ইসমাইল হোসেন সুজন একটি কাচি দিয়ে আবু নাছেরের বুকে ও তলপেটে আঘাত করে।”
মার্কেটের লোকজন এগিয়ে এসে আবু নাছেরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেদিন রাতেই সেখানে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন নিহত আবু নাছেরের মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে নগরীর পাহাড়তলি থানায় ইসমাইল হোসেন সুজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এই মামলায় আসামি ইসমাইল হোসেন সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এদিন রায় দেওয়া হল।