Published : 20 Jun 2025, 07:18 PM
যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে মরণব্যাধিতে আক্রান্তদের জন্য স্বেচ্ছামৃত্যুকে বৈধতা দেওয়া হবে কিনা সে প্রশ্নে চূড়ান্ত বিতর্কের পর ঐতিহাসিক ভোট হতে চলেছে শুক্রবার।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের এই ভোটে এবার স্বেচ্ছামৃত্যুর এই বিল হয় পাস হয়ে উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে যেতে পারে, নয়ত থেমে যেতে পারে এখানেই।
বিলটি পাস হয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধতা পেলে ‘চাওয়ামাত্র সহজলভ্য হবে মৃত্যু’। তাই শুক্রবারের এই ভোটকে যুক্তরাজ্যে এক প্রজন্মের মধ্যে সমাজে সবচেয়ে বড় সংস্কারের পথে একটি বিরাট পদক্ষেপ হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে এই হাউজ অব কমন্সেই স্বেচ্ছামৃত্যু বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন এমপি’রা। পক্ষে ভোট দেন পার্লামেন্টের ৩৩০ জন আইনপ্রণেতা। আর বিপক্ষে ভোট দেন ২৭৫ জন।
এরপর মাসের পর মাস ধরে পার্লামেন্ট কমিটিতে বিলটি নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে, সংশোধন করা হয়েছে এবং বিলটি নানা আবেগঘন বিতর্কের মধ্য দিয়ে গেছে। এখন বিলটি আবারও ভোটাভুটির জন্য তোলা হচ্ছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় (১৩৩০ জিএমটি) ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পক্ষে ভোট পড়লে প্রস্তাবিত নতুন আইন পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় বাধা পার হয়ে যাবে।
পার্লামেন্টে লেবার দলের আইনপ্রণেতা কিম লিডবিটার বিলটি প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি বলেছেন, আগের বছরের তুলনায় এবার এই বিল সমর্থন করা এমপি’র সংখ্যা কম হতে পারে।
তবে এখনও বিলটি অনুমোদর পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। প্রস্তাবটির এক সমর্থক এমপি বলেছেন, পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া সদস্যদের মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য। আবার অনেকে এখনও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেননি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের লেবার সরকার বিলের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে আছে। ফলে রাজনীতিবিদরা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয় বরং নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী ভোট দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
স্টারমার গতবছর বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন এবং তিনি এটি সমর্থন করছেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কিছু কিছু এমপি বলছেন, বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে আসার মতো এমন একটি বিল নিয়ে পার্লামেন্টে আরও বিতর্ক হওয়া উচিত ছিল এবং সরকারের আরও সংশ্লিষ্টতা ও জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন ছিল।
শুক্রবারের ভোট বিলের পক্ষে পড়লে স্বেচ্ছামৃত্যু আইনে পরিণত হওয়ার পথে থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় আরও কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।
লেবার দলের আইনপ্রণেতা লিডবিটার বলেন, তার সবচেয়ে বড় শঙ্কা হল, যদি বিলটি ভোটে বাতিল হয়ে যায়, তাহলে এটি ফের পার্লামেন্টে আসতে আরেক দশক লেগে যেতে পারে।
এ বিষয়টি শেষবার আলোচনায় এসেছিল ২০১৫ সালে। তখন স্বেচ্ছামৃত্যুর প্রস্তাব বাতিল হয়ে গিয়েছিল।
মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ যারা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্য স্বেচ্ছামৃত্যু আইন হওয়া জরুরি। ভোটের আগে সাংবাদিকদের বলেন লিডবিটার। তিনি বলেন, “এটি জীবন কিংবা মৃত্যু কোনও একটিকে বেছে নেওয়া নয়, বরং মরণব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষ কীভাবে মরতে চায় তা বেছে নেওয়ার বিষয়।”
বেশিরভাগ ব্রিটিশ নাগরিক স্বেচ্ছামৃত্যুর পক্ষে বলে জনমত জরিপে উঠে এসেছে। সমর্থকরা বলছে,জনমতের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই আইন হওয়া দরকার।
নতুন আইনের আওতায়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ছয় মাস বা তার কম সময় বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন মানুষদের চিকিৎসকের সহায়তায় নিজের জীবন শেষ করার সুযোগ থাকবে।
প্রাথমিক প্রস্তাবে যেখানে স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য আদালতের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছিল সেখানে সংশোধিত প্রস্তাবে স্বেচ্ছামৃত্যু অনুমোদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিন সদস্যের একটি প্যানেলকে। এই প্যানেলে থাকবেন একজন সমাজকর্মী, একজন সিনিয়র আইনবিদ এবং একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।