Published : 08 Jul 2026, 12:26 PM
আট মামলায় জামিন পাওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর হয়েছে, তাতে আটকে গেছে তার মুক্তি।
পুলিশের আবেদনে বুধবার তাকে বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন জানান, খায়রুল হককে এদিন আদালতে হাজির করা হয়নি। ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখিয়ে শুনানি হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে এ মামলায় খায়রুল হকের জামিনের জন্য আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "এক মামলায় জামিন পেলে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। আজ নবম মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল। কবে মুক্তি মিলবে জানি না। আমরা অপেক্ষায় আছি সেঞ্চুরি পূরণের।"
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
শুরুতে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরপরই তাকে নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ফলে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির মুক্তি বার বার আটকে যায় বলে তার আইনজীবীদের অভিযোগ।
সবশেষ গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ।
কিন্তু দুই দিনের মাথায় বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম তাকে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও মামলার মুল নথি না থাকায় শুনানি পিছিয়ে বুধবার দিন রাখা হয়। আর বুধবার শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখানোর আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়।
এ মামলার অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ যাওয়ার পথে হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়।
এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। সেই উজ্জ্বল মিয়া ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এ মামলা করেন।
খায়রুল হকের অন্যতম আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, এ মামলা যখন করা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি তখন জেলখানায় বন্দি ছিলেন।
“জেলখানায় থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে নতুন কোনো মামলায় সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং তাকে অ্যারেস্ট দেখানো যায়? এটা সম্পূর্ণ বেআইনি।”
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ঊনবিংশতম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। ওই রায় দেওয়ার সাত দিন পর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।
অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের এক বছর পর খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, রায় ‘জালিয়াতি’ এবং দুর্নীতির মোট নয়টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।