Published : 08 Jul 2026, 12:59 PM
১৩ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে বিদায়ের দুয়ার থেকে বিশ্বকাপে টিকে গেল আর্জেন্টিনা। শুরুতে পেনাল্টি মিস করা লিওনেল মেসি পরে গোল করে ও করিয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে রাখলেন বড় ভূমিকা। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে কোয়র্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিল লিওনেল স্কালোনির দল।
আরেকটি পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জিতল আর্জেন্টিনা। শেষ বত্রিশে কেইপ ভার্ডকে ৩-২ গোলে হারানো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে জিতল একই ব্যবধানে।
এই জয়ে অনেক অর্জন ধরা দিয়েছে মেসি, আর্জেন্টিনার হাতে। সেগুলো তুলে ধরা হলো-
১
বিশ্বকাপ ইতিহাসে লিওনেল মেসি প্রথম খেলোয়াড়, যিনি টানা ছয়টি নকআউট ম্যাচে গোল করেছেন। ২০০২ সালে শিরোপা জয়ের পথে শেষ ষোলো, কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে গোল করেছিলেন তিনি। এবার শেষ বত্রিশ ও শেষ ষোলোয় পেলেন জালের দেখা।
১
বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনাই প্রথম দল যারা নকআউট পর্বে ১৫ মিনিট বাকি থাকতে দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরও নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছে। আর তারাই প্রথম শিরোপাধারী দল যারা দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও কোনো ম্যাচে জিতল।
১/৬
বিশ্বকাপের এক আসরে দেশের প্রথম পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পাওয়া ছয় খেলোয়াড়ের একজন মেসি। ১৯৫৮ আসরে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেন ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন। টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করেন ব্রাজিলের জায়ারজিনিয়ো (১৯৭০), জার্মানির জার্ড মুলার (১৯৭০), ব্রাজিলের রিভারলদো (২০০২) ও কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেস (২০১৪)।
১
২১তম মিনিটে স্পট কিকে ব্যর্থ হন মেসি। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক (টাইব্রেকার বাদ দিয়ে)। বিশ্বকাপে কেবল আট পেনাল্টির চারটিতে জালের দেখা পেয়েছেন তিনি।
২
বিশ্বকাপে এক ম্যাচে কেবল দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে গোল করেছেন, পাঁচের বেশি সফল ড্রিবল করেছেন, ওপেন প্লে থেকে পাঁচের বেশি সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। প্রথম জন? ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে।
২
চলতি আসরে কেবল দুই দলের বিপক্ষে দুটি করে গোল ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হয়েছে। প্রথম দল পর্তুগাল, দ্বিতীয় দল আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার একটি গোল বাতিল হয়েছিল, আরেকটি হলো মিশর ম্যাচে।
৩
গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের এক আসরে মিশরের কেবল দুই জন খেলোয়াড়ের এক আসরে তিনটি করে গোলে অবদান আছে। তারা সেটি করেছেন চলতি আসরেই। প্রথম জন মোহামেদ সালাহ, পরের জন মোস্তাফা জিকো। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
এক আসরে একাধিক গোল করা তৃতীয় মিশরীয় ফুটবলার জিকো। অন্য দুই জন হলেন সালাহ (২০১৮) ও আব্দেল রাহমান ফাওজি (১৯৩৪)।
৩
বিশ্বকাপের নকআউটে এ নিয়ে তৃতীয়বার কোনো ম্যাচে অন্তত একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করলেন মেসি। তার অভিষেক আসর ২০০৬ থেকে যা কোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। এই সময়ে কেবল জার্মানির টমাস মুলার (২) একাধিকবার এমন কিছু করতে পেরেছেন।
৫
কেবল দ্বিতীয়বারের মতো নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচ জিতল আর্জেন্টিনা। প্রথমবার জিতেছিল ২০১৪ সালে। ব্রাজিল আসরে তারা হয়েছিল রানার্সআপ।
৬
মিশরের বিপক্ষে ছয়টি সুযোগ তৈরি করেন মেসি। যৌথভাবে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ যা তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১০ আসরে নাইরেজিয়ার বিপক্ষেও ছয় সুযোগ তৈরি করেন তিনি। সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছেন কোন দলের বিপক্ষে? ২০১৪ আসরের কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে, নয়টি।
৭
বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে সাত ম্যাচে গোল করলেন মেসি। যা যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
৮
আসরে মেসির গোল হলো আটটি। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও নরওয়ের আর্লিং হলান্ডকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। এমবাপে ও হলান্ড গোল করেছেন সাতটি করে।
এক আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন মেসি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে ১৯৩০ সালে ৮ গোল করে এতোদিন এককভাবে চূড়ায় ছিলেন গিয়ের্মো স্তাবিলে।
১৯৭০ সালে জার্মানির জার্ড মুলারের (১০) পর বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল করলেন মেসি।
৮
চলতি আসরে ৭৬তম মিনিট থেকে শুরু করে বাকি সময়টায় আট গোল করল আর্জেন্টিনা। যৌথভাবে যা সর্বোচ্চ। ১৯৫৪ আসরে প্রথম করেছিল সেই সময়ের পশ্চিম জার্মানি।
৯
বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্ট হলো নয়টি। ১৯৬৬ সালে রেকর্ড রাখার সময় থেকে যা সর্বোচ্চ। এতো দিন মারাদোনর সঙ্গে যৌথভাবে চূড়ায় ছিলেন মেসি।
৯
বিশ্বকাপ টানা গোল করার রেকর্ড আরেকটু উজ্জ্বল করলেন মেসি। দুই আসর মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন তিনি।
১০
এন্সো ফের্নান্দেস হেড থেকে জয় সূচক গোল করেন। চলতি আসরে হেড থেকে এটি দশম গোল। বিশ্বকাপের এক আসরে যা সর্বোচ্চ।
১১
বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত আর্জেন্টিনা। নিজেদের ইতিহাসে যা তাদের সর্বোচ্চ।
১১
দুই আসর মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ ধরে একাধিক গোল করছে আর্জেন্টিনা। যৌথভাবে যা সর্বোচ্চ। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ আসরে টানা ১১ ম্যাচে একাধিক গোল করেছিল উরুগুয়ে।
১২
মিশরের বিপক্ষে ডি বক্সে বলে ১২ বার স্পর্শ করেন মেসি। বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে যা তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ গত আসরে পোল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৩ বার।
১৪
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৪ গোলে অবদান রাখলেন মেসি। সাত গোল করলেন তিনি, সাত গোল করালেন। গত ৬০ বছরে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। সমান অবদান আছে এমবাপেরও।