Published : 03 Jul 2026, 11:12 PM
ইউরোপজুড়ে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্সে আরও ২ হাজার ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে মৃত্যুহার এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ৪৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন আগামী কযেকদিনে ইউরোপে আরও চরম তাপমাত্র দেখা দিতে পারে।
গত ২৪ জুন ফ্রান্সে দেশজুড়ে গড় হিসাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ওইদিন রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং দেশের অর্ধেক এলাকায় তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ের 'লাল সতর্কতা' জারি করা হয়।
যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও এই তাপপ্রবাহ প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। বেলজিয়ামে এ সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি অর্থাৎ, ১,২২২ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অর্ধেকই ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী।
ডাচ কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, নেদারল্যান্ডসেও গত সপ্তাহে তীব্র গরমের কারণে প্রায় ৪৮০ জন অতিরিক্ত মানুষ মারা গেছে।
ওদিকে, ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা শুক্রবার জানায়, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২,০২৫ জন বেড়েছে, যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। কেবল রাজধানী প্যারিসেই মৃত্যুর হার বেড়েছে ৬২ শতাংশ।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, মৃত্যুর প্রাথমিক এই পরিসংখ্যান প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কমও হতে পারে।
তীব্র দাবদাহে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৮ জুন থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিবিসি ওয়েদারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আজোরেস অঞ্চল থেকে পর্তুগাল ও স্পেন অভিমুখে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে এই সপ্তাহান্ত নাগাদ ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস আছে।
বিশ্বজুড়েই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। তবে ইউরোপে বিশেষত এর প্রভাব বেশি স্পষ্ট। কোপার্নিকাস জলবায়ু সেবার তথ্যানুযায়ী, ইউরোপই বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে তাপমাত্রা বাড়ছে।