১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করলেন ক্যাপিটল দাঙ্গায় দোষী একজন

ট্রাম্প ৪৭ তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম কার্যদিবসেই ২০২১ সালের ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় জড়িত প্রায় ১,৬০০ জন দাঙ্গাবাজকে ক্ষমা করার আদেশ দেন।

ট্রাম্পের ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করলেন ক্যাপিটল দাঙ্গায় দোষী একজন
ছবি: সিএনএন

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jan 2025, 08:51 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:30 PM

চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে জেল খাটা একজন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা সেদিন ভুল করেছিলাম।” 

এর আগে ট্রাম্প ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম কার্যদিবসেই ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় জড়িত প্রায় ১,৬০০ জন দাঙ্গাবাজকে ক্ষমার আদেশ দেন। 

তবে এই আদেশের পরই দোষী সাব্যস্ত পামেলা হেমফিল ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বিবিসি-কে বলেন, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির দাঙ্গার জন্য কোনও ক্ষমা হওয়া উচিত নয়।

দাঙ্গায় জড়িত থাকার ঘটনায় দোষ স্বীকার করে ৬০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন পামেলা হেমফিল। তিনি বলেন, “ক্ষমা গ্রহণ করা হলে তা কেবল ক্যাপিটল পুলিশ কর্মকর্তা, আইনের শাসন এবং আমাদের জাতিকেই অপমান করা হবে।”

পামেলা আরও বলেন, "আমি দোষী ছিলাম বলেই দোষ স্বীকার করেছিলাম। তাই এখন ক্ষমা গ্রহণ করলে তা তাদের (ট্রাম্প প্রশাসন) গ্যাসলাইটিং এবং মিথ্যা বয়ানেই নতুন মাত্রা যোগ করা হবে।” 

ট্রাম্পের “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন” স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে, পামেলা বলেন, “ট্রাম্প সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস নতুন করে লেখার চেষ্টা করছে। আমি এর অংশ হতে চাই না। ”

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের নিউজ ডে প্রোগ্রামে তিনি বলেন, "সেদিন আমরা ভুল করেছিলাম, আমরা আইন ভঙ্গ করেছি- এর কোনও ক্ষমা হয় না।”

এর আগে, ২০১৬ সালে নির্বাচনে জিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে উঠলেও সেই চার বছর গেছে ‘বিশৃঙ্খলা আর সমালোচনার’ মধ্য দিয়ে। 

এরপর ২০২০ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়লেও হেরে যান জো বাইডেনের কাছে। 

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের হেরে যাওয়ার পর ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে যৌথ অধিবেশনে ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের নির্বাচনে জয়ের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলার সময় রিপাবলিকান দলের তৎকালীন পরাজিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকরা ভবনটিতে হামলা চালায়।

এতে পুলিশসহ অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছিলেন। ট্রাম্প-সমর্থকদের নজিরবিহীন ওই তাণ্ডবে হতভম্ব হয় যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষ। এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর বড় ধরনের আঘাত বলে বর্ণনা করেন অনেকেই। দাঙ্গার ঘটনাকে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন অনেক আমেরিকান রাজনীতিবিদ।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন: "এই ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই কয়েক বছর কারাগারে কাটিয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক অমানবিক দিন কাটিয়েছে।" তিনি ওই সম্মেলনে কারাগারকে ঘৃণিত, অমানবিক এবং ভয়ংকর বলে অবিহিত করেছেন। 

তবে ট্রাম্পের দাঙ্গাবাজদেরকে ক্ষমার পদক্ষেপে কয়েকজন রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনার সেনেটর থম টিলিস বলেন, “আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারছি না।”

ওকলাহোমার আরেক রিপাবলিকান সেনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড সিএনএনকে বলেন, “আমি মনে করি আমাদের বলা অব্যাহত রাখতে হবে আমরা আইন-শৃঙ্খলার পক্ষে।

ওকলাহোমার আরেক রিপাবলিকান সেনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড সিএনএন-কে বলেন, "আমরা আইনের পক্ষে। আমি মনে করি যদি কেউ পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করেন, তাহলে সেটা খুবই জঘন্য অপরাধ। সেই অপরাধে দোষী সাব্যস্তদের অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে।”